বাগেরহাটে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষ মেলা শুরু “গাছ ভালো থাকলে, আমরাও ভালো থাকব” — প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার বাগেরহাট:
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডারখ্যাত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষ মেলা শুরু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

উদ্বোধনের আগে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামের সামনে থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে প্রতিমন্ত্রী মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

এ উপলক্ষে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা অক্সিজেন গ্রহণ করি, আর কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করি। গাছ ঠিক তার বিপরীত কাজ করে। মানুষের জীবন ও পরিবেশের সঙ্গে গাছের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। গাছ ভালো থাকলে, আমরাও ভালো থাকব।”

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সৌদি আরবে নিমগাছ রোপণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সৌদি আরবে নিমগাছ রোপণ করেছিলেন। যারা হজ পালন করতে সেখানে গেছেন, তারা দেখেছেন প্রচণ্ড রোদ ও ৪০ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেও নিমগাছ মানুষকে স্বস্তি দেয়। একজন পণ্ডিত ব্যক্তি বলেছিলেন, যার বাড়িতে নিমগাছ আছে, তার বাড়িতে ডাক্তারের প্রয়োজন হয় না।”

গাছ ও পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গাছ ও প্রকৃতি আমাদের সন্তানদের সুস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত। পরিবেশের প্রতিটি বিষয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। পৃথিবীর সব জীবজন্তু ও প্রাকৃতিক উপাদানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আমাদের নতুন প্রজন্মকে এসব বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ঔষধি, ফলজ ও বনজ বৃক্ষ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নদী ও খাল খনন, কর্মসংস্থান এবং বৃক্ষরোপণ—প্রতিটি বিষয় নিয়েই আমরা কাজ করছি। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।” কোনো প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় গাছ মারা গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার, সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শাহিন কবির এবং বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম।

অনুষ্ঠান শেষে জেলা পরিষদ ভবনের পশ্চিম পাশে একটি ঔষধি ও একটি ফলদ গাছের চারা রোপণ করেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করেন।

সামাজিক বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির চারা নিয়ে ১৯টি স্টল অংশ নিয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত স্টলগুলোতে চারা প্রদর্শন ও বিক্রয় কার্যক্রম চলবে। আগামী ১৭ জুলাই সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মেলার সমাপ্তি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *