খুলনা নিরালায় বস্তাবন্দী উদ্ধার হওয়া লাশের নেপথ্যেপরিচয় পাওয়া গেছে স্কুল ছাএী নির্জনা

এম এ জলিল বিভাগীয় প্রতিনিধি খুলনা
খুলনা মহানগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দী রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহের পরিচয় মিলেছে। নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ওই কিশোরী খুলনা সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬)। সে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা মো. আলীম হোসেন আকাশের মেয়ে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পুলিশের একটি বিশেষ চৌকস ইউনিট আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তবে পরিচয় মেলার পরপরই এই হত্যাকাণ্ড এক চাঞ্চল্যকর ও রহস্যজনক মোড় নিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই নির্জনার পিতা মো. আলীম হোসেন আকাশ এবং তার স্ত্রী আরিফা ইয়াসমিন সীমাকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। হঠাৎ করে বাবা-মায়ের এমন রহস্যজনক অন্তর্ধানের পর খোদ পুলিশের মনেই নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের উদ্রেক ঘটিয়েছে।

অনুসন্ধানে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এক যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ধরে গত তিনদিন আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল স্কুলছাত্রী নির্জনা। গত পরশু দিন আকাশ ও সীমা দম্পতি অনেক খোঁজাখুঁজির পর নির্জনাকে প্রেমিকের কাছ থেকে উদ্ধার করে বাসায় ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু বাসায় ফেরার পর থেকেই নির্জনা চরম বেসামাল ও অনিয়ন্ত্রিত আচরণ করতে থাকে। এরপরই গত বুধবার রাতে তার বস্তাবন্দী রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার হয় এবং আজ থেকে তার বাবা-মা উধাও হয়ে যান। এই ঘটনার পর সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে-এটি কি পরিবারের ‘অনার কিলিং’ বা লোকলজ্জার ভয়ে নিজেদের হাতেই হত্যাকাণ্ড, নাকি এর পেছনে প্রেমিকের কোনো হিংস্র থাবা রয়েছে?

এর আগে, গত বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কের একটি সাততলা ভবনের সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বড় প্লাস্টিকের বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বস্তা থেকে তাজা রক্ত বের হতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হলে, খুলনা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তাবন্দী অবস্থায় নির্জনার মরদেহটি উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশের প্রাথমিক ও দৃঢ় ধারণা, অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে বা ঘরের ভেতর এই স্কুলছাত্রীকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে শ্বাসরোধ বা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে গভীর রাতে বা সুবিধাজনক সময়ে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ওই আবাসিক এলাকায় ফেলে রেখে যায় ঘাতকেরা।

পরিচয় মেলা এবং বাবা-মায়ের উধাও হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে খুলনা থানা পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এই ঘটনার পেছনের মূল কুশীলবদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম ও গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) একযোগে মাঠে কাজ করছে। একটি উদীয়মান স্কুলছাত্রীকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করে বস্তাবন্দী করার ঘটনায় গোটা খুলনা নগরীজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, নিস্তব্ধতা ও নিন্দার ঝড় বইছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে প্রকৃত অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *