আদমদীঘিতে সংস্কার ও উন্নয়নের ছোঁয়ায় পাল্টে যাচ্ছে উপজেলার চিত্র
আদমদীঘি প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ অবস্থা কাটিয়ে সংস্কার ও উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে যেতে চলেছে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা প্রশাসনিক ভবন ও চত্বর। বিভিন্ন অবকাঠামো গত উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন মূলক কাজের ফলে প্রশাসনিক পরিবেশে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। এতে পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে সেবা নিতে এসে স্বস্তি প্রকাশ করছেন সেবা প্রত্যাশীরা। তবে উপজেলা চত্বরে চারপাশের ভাঙাচোরা সীমানা প্রাচীর পুন র্নির্মাণ, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করা হলে পুরো চত্বরের সৌন্দর্য ও পরিবেশ আরও উন্নত হবে। যার ফলে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক এলাকার সামগ্রিক চিত্রও আরও আধুনিক ও নান্দনিক হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।
আদমদীঘি উপজেলা পরিষদ সুত্রে জানা যায়, ১৯৮৩ সালে আদমদীঘি উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের দোর গোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর স্থাপন করা হয়। এর ফলে সাধারণ মানুষ সহজেই নিজ এলাকার নিকটবর্তী দপ্তর থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। এ কারণে উপজেলা জনসাধারণের কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্তর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে উপজেলা প্রশাসনিক চত্বরের বিভিন্ন ভবন ও অবকাঠামো জরাজীর্ণ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই উপজেলা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বেশি অবহেলিত ছিল। ফলে দৃশ্যমান উন্নয়ন মূলক কাজ তেমন চোখে পড়েনি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে উপজেলা প্রশাসনিক এলাকায় একাধিক দৃশ্যমান উন্নয়ন মূলক কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে আধুনিক মানের গেট নির্মাণ ও উভয় পাশে প্রাচীর নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ কিছু সড়ক সংস্কার, পরিত্যক্ত পুরোনো ভবন অপসারণ করে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাংলোর অভিমুখী সড়ক আরসিসিকরণ, কৃষি অফিসের সামনের সড়ক আরসিসিকরণ এবং হলরুমের সামনে ইউনিব্লক স্থাপনের কাজ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও দীর্ঘদিন সংস্কারহীন অবস্থায় থাকা স্টাফদের আবাসিক যমুনা ও রূপসা ভবন সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে আনসার সদস্যদের ব্যারাক নির্মাণের কাজ চলছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, মহিলা বিষয়ক দপ্তরের জরাজীর্ণ ভবন এবং ট্রেনিং সেন্টারের জন্য পুরোনো ভবন সহ ছয়টি কক্ষ সংস্কার ও নির্মাণকাজও করা হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের জরাজীর্ণ বাউন্ডারি ওয়াল চারপাশে পুনর্নির্মাণ এবং পুরো চত্বরে জলাবদ্ধতা নিরসনে উন্নতমানের ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে দায়িত্বরত উপজেলা প্রশাসন। এসব উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হলে উপজেলা পরিষদ চত্বরের সার্বিক পরিবেশ ও সৌন্দর্যে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী।
উপজেলায় সেবা নিতে আসা এনামুল হক, আফরোজা বেগম ও পারভীন আক্তার বলেন, এক সময় উপজেলা চত্বরে জলাবদ্ধতা, অভ্যন্তরীণ সড়কের বেহাল অবস্থা এবং চারপাশের ভাঙা চোরা প্রাচীরের কারণে পরিবেশ ছিল অপরিচ্ছন্ন ও নিরাপত্তাহীন। তবে আগের তুলনায় বর্তমানে উপজেলা চত্বর অনেক পরিচ্ছন্ন ও উন্নত হয়েছে।
এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম বলেন, প্রকল্পের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনও অসম্পন্ন রয়েছে। এসব কাজ শেষ করতে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অতিরিক্ত বরাদ্দের চাহিদা পত্র পাঠানো হবে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে উপজেলা পরিষদের সীমানা প্রাচীর, অভ্যন্তরীণ ড্রেন, নতুন কোয়ার্টার নির্মাণসহ অবশিষ্ট কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে।

