বটিয়াঘাটার খেয়া ঘাটে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের বার বার অভিযোগ উঠলেও নেই কোন প্রতিকার

সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা:
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বিভিন্ন খেয়া পারাপারে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ বা তারও বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠছে। বিশেষ করে বটিয়াঘাটা-বিরাট খেয়াঘাটের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। নিয়মিত খেওয়া দেরিতে পারাপার হওয়ায় যাত্রীরা বেশি টাকা দিয়ে জলদি পারাপার হতে হচ্ছে। এতে যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। অনেক যাত্রীদের ভাষ্য জলদি খেওয়ার সাথে নিয়মিত খেয়ার গোপন কোন সখ্যতার কারণে এগুলো বেশি ঘটছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বটিয়াঘাটা-বিরাট ঘাটে যেখানে নৌকায় ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারিত, সেখানে ২০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মোটরসাইকেল থেকে ৫০ টাকা, ভ্যান ১০ টাকা, গরু ৫০ টাকা, ছাগল ১০ টাকা এবং মালামাল প্রতি মন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করা হচ্ছে বলেও জানা যায়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ঘাটে ‘জলদি নৌকা’ চালানোর কোনো অনুমতি না থাকলেও অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে সেগুলো চালানো হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নৌচালক জানান, ইজারাদারকে দৈনিক নির্দিষ্ট টাকা দিতে হয় বলেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে হয়। যাত্রীদের অভিযোগ, বটিয়াঘাটা-ফুলতলা, কাতিয়ানাংলা-শিয়ালিডাঙ্গা, গোপালখালী-হালিয়া, বারআড়িয়া-নারায়পুর ও শোলমারীসহ বিভিন্ন ঘাটেও একইভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে বাড়ছে।
ঝিনাইখালী গ্রামের যাত্রী আজমল হোসেন জানান, তিনি সাইকেলসহ পারাপারের সময় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে ইজারাদাররা বলছেন, অতিরিক্ত ডাকের মাধ্যমে ঘাট ইজারা নেওয়া হয়েছে বলেই কিছুটা বাধ্য হয়েই বেশি নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থান্দার কামরুজ্জামান বলেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন ঘাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দ্রুতই প্রতিটি ঘাটে রেট চার্ট টানানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা হবে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *