হাজীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

ভোগান্তিতে সেবা প্রত্যাশীরা, তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
মোঃ জাবেদ হোসেন: চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, দালালচক্রের সক্রিয়তা এবং সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এসব অনিয়মে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ১৫ জুন সোমবার সকালে সরেজমিনে হাজীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, জমি রেজিস্ট্রির কাজে আগত মানুষের ব্যাপক ভিড়। অফিসের বিভিন্ন কক্ষে ফাইলের স্তূপ, কাগজপত্রের জট এবং সেবা নিতে আসা মানুষের ব্যস্ততা চোখে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকজন সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন, সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়াও বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, অফিসের কিছু অসাধু ব্যক্তি ও দালালচক্রের মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রির বিভিন্ন কাজে অতিরিক্ত অর্থ লেনদেন করা হয়। অভিযোগে হিসাব সহকারী আবুল বাশার শেখ এবং মহরার মমতাজ বেগমের নামও উল্লেখ করেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা। তাদের দাবি, নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে অর্থ প্রদান না করলে অনেক সময় ফাইলের কার্যক্রম বিলম্বিত করা হয়, ফলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করেন অনেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, জমি রেজিস্ট্রির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন থাকার পরও বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ সঠিক তথ্য না পেয়ে দালালদের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন। এতে সরকারি সেবা গ্রহণের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
এছাড়া অফিসে সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে কিছু কর্মচারীর অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে চাইলে অনেক সময় তাদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করা হয় এবং বিভিন্নভাবে ঘুরানো হয়। ফলে সরকারি সেবা গ্রহণ করতে এসে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, জমি রেজিস্ট্রির মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবাকে ঘিরে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ থাকা উচিত নয়। তারা বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য হাজীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। একইভাবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অফিস সহকারী আবুল বাশার শেখের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মহরার মমতাজ বেগমের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।
এদিকে সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন, নিবন্ধন অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হন এবং সরকারি সেবার প্রতি জনগণের আস্থা অটুট থাকে।
(বিঃদ্রঃ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *