ক্ষতি হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পাশে ইউএনও চন্দন কর; হরিপুরে উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত সহায়তায় জনমনে প্রশংসা
জসীমউদ্দীন ইতি, ঠাকুরগাঁও:
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চন্দন কর। তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানবিক ও জরুরি খাদ্য সহায়তা প্রদান করায় স্থানীয় প্রশাসন ও ইউএনও-র এই দ্রুত ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করছেন সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সচেতন মহল।
ফায়ার সার্ভিসের অফিশিয়াল ডাটা শিট এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সোমবার (০৮ জুন) সকাল ঠিক ৬:০০ ঘটিকায় হরিপুর উপজেলার হরিপুর গ্রামের মতির রহমান (পিতা: মো: আ: কাদের)-এর খড়ের গাদায় ও দোকানে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, এক পাগলের আগুন লাগানোর কারণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাটি ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুনে ২টি খড়ের গাদা (১০x১২ হাত) সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই হরিপুর ফায়ার সার্ভিসের টিম মাত্র ২ মিনিটের মধ্যে (সকাল ৬:০২ মিনিটে) ঘটনাস্থলে পৌঁছে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ শুরু করে। লিডার জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে ফায়ারফাইটারসহ মোট ১০ জন সদস্যের একটি দল আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে সকাল ৬:২০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের যৌথ তৎপরতায় প্রায় দশ হাজার টাকার সম্পদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্বস্তির বিষয় হলো, এই দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ক্ষতিগ্রস্ত মতিউর রহমান ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনাটি জানা মাত্রই কোনো বিলম্ব না করে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চন্দন কর দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মতির রহমান ও তাঁর পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং সান্ত্বনা দেন। একই সাথে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের হাতে জরুরি খাদ্য সহায়তার বস্তা তুলে দেওয়া হয়।
অগ্নিকাণ্ডের মতো আকস্মিক বিপদের মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় খোদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চন্দন কর খাদ্য সামগ্রী নিয়ে সশরীরে হাজির হবেন—এমনটি ভাবেননি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি। সরকারি এই দ্রুত সাড়াদানে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয়রা বলেন, সংকটের মুহূর্তে প্রশাসনের এই ধরনের দ্রুত, আন্তরিক ও মানবিক পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি মূলত বর্তমান জনবান্ধব প্রশাসনের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

