কোটচাঁদপুরে ভয়ংকর ডাকাতি: গাবতলী থেকে ফেরার পথে মলম পার্টির খপ্পরে ২ গরু ব্যবসায়ী, লুট সাড়ে ১৭ লাখ টাকা; পালালো সুপারভাইজার, বাস আটক।

মশিউর রহমান ঃ
কোটচাঁদপুর জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে গরু ব্যবসায়ীদের সর্বস্ব লুটের ঘটনায়। ঢাকার গাবতলী পশুর হাটে গরু বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে ‘মলম পার্টি’র ভয়ংকর ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন ঝিনাইদহের দুই ব্যবসায়ী। চলন্ত বাসের ভেতর চেতনানাশক প্রয়োগ করে তাদের কাছ থেকে লুট করা হয়েছে নগদ ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ঘটনার পর বাসের সুপারভাইজারের রহস্যজনক পলায়নে ক্ষোভে ফেটে পড়ে জনতা। পরে ‘ঝিনাইদহ লাইন’ (JLine) পরিবহনের বাসটি আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীরা হলেন কোটচাঁদপুর উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের আবু বক্করের ছেলে ওহেদুল ইসলাম (৪৫) এবং কুশনা এলাকার ইবাদত মল্লিকের ছেলে সবুজ (৪০)।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে ঢাকার গাবতলী পশুর হাটে ১৫টি গরু বিক্রি করেন তারা। এর মধ্যে ওহেদুলের ৮টি গরু বিক্রির ১০ লাখ টাকা এবং সবুজের কাছে ছিল আরও ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। গরু বিক্রির পুরো অর্থ সঙ্গে নিয়েই তারা ঢাকা মেট্রো-ব ১৪-৭২১৩ নম্বরের ‘ঝিনাইদহ লাইন’ পরিবহনের একটি নৈশকোচে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, যাত্রাপথে বাসের ভেতরেই সংঘবদ্ধ মলম পার্টির সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে তাদের চোখে-মুখে চেতনানাশক বা বিষাক্ত কেমিক্যাল জাতীয় পদার্থ প্রয়োগ করে অচেতন করে ফেলে। এরপর তাদের সঙ্গে থাকা নগদ ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে চক্রটি নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।
ভোররাতে চেতনা ফিরে পেলে তারা নিজেদের সর্বস্ব খোয়া যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন। এসময় বাসের সুপারভাইজারের আচরণে সন্দেহ দেখা দিলে যাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, পরিস্থিতি বেগতিক বুঝতে পেরে সুপারভাইজার কোটচাঁদপুরে পৌঁছানোর আগেই বাস থেকে নেমে পালিয়ে যায়। তার এই রহস্যজনক পলায়ন পুরো ঘটনায় নতুন সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
বুধবার সকালে বাসটি কোটচাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে ক্ষুব্ধ জনতা বাসটি ঘেরাও করে আটক করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আনসারুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি ঢাকার এলাকায় ঘটেছে। এখনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে বাস মালিকপক্ষ যোগাযোগ করেছে। তারা আগামী বুধবার বসে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন— চলন্ত বাসে কোটি টাকার কাছাকাছি অর্থ লুট হলেও কীভাবে কেউ টের পেল না? কেন পালিয়ে গেল সুপারভাইজার? সাধারণ মানুষের দাবি, বাস স্টাফদের সহযোগিতা ছাড়া এমন সংঘবদ্ধ লুট অসম্ভব। তাই দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে লুট হওয়া টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *