প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপনের কাজ

মোঃ জাবেদ হোসেনঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণার মাত্র চার দিনের মধ্যেই চাঁদপুরে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। সম্ভাব্যতা যাচাই ও উপযুক্ত স্থান নির্ধারণে ইতোমধ্যে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারের এমন দ্রুত পদক্ষেপে জেলাবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
গত ১৬ মে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে একটি ইপিজেড স্থাপনের ঘোষণা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২০ মে) বেপজার প্রধান কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।
বেপজার নির্দেশনা অনুযায়ী, চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীসংলগ্ন এলাকা কিংবা জেলার অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে ইপিজেড স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করবে কমিটি। এতে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল মীরসরাই প্রকল্পের পরিচালক। পাশাপাশি বেপজার বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, চাঁদপুরে নতুন ইপিজেড স্থাপনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, ভৌগোলিক ও অবকাঠামোগত সুবিধা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় উপযোগিতা যাচাই করা হবে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে সম্ভাব্য স্থান নির্বাচন করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপিত হলে জেলার অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে পারে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে ইপিজেড প্রকল্পের পাশাপাশি মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, নদীশাসন এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিও জানানো হয়েছে।
চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ বলেন, “চাঁদপুরে মেঘনা নদীর অববাহিকায় ইপিজেড স্থাপন করা হলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে নতুন গতি আসবে। এতে বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন শিল্পায়নের সুযোগ তৈরি হবে এবং জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।”
চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, “শুধু ইপিজেড নয়, চাঁদপুরে আরও বড় ধরনের উন্নয়ন উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আনা হয়েছে। আশা করছি, জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।”
চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্ল্যাহ সেলিম বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চাঁদপুরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। রিভার ড্রাইভসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা আশা করছি, এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে চাঁদপুর একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ জেলায় পরিণত হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *