চাঁদপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মাসব্যাপী কুটির শিল্প প্রদর্শনী উদ্বোধন দেশীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন
মোঃ জাবেদ হোসেনঃ দেশীয় ঐতিহ্য, হস্তশিল্প এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী কুটির শিল্প প্রদর্শনী। স্থানীয় উদ্যোক্তা, নারী কারিগর ও গ্রামীণ শিল্পীদের তৈরি দেশীয় পণ্যের প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এ প্রদর্শনী ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে চাঁদপুর প্রেসক্লাব মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ কুটির শিল্প প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিমুল্লাহ সেলিম।
চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদীর সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক ও সুধীজনদের উপস্থিতিতে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ, সাবেক সভাপতি শরীফ চৌধুরী ও রহিম বাদশা, প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য আলম পলাশ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান শোভনসহ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, স্থানীয় উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিমুল্লাহ সেলিম বলেন,
“কুটির শিল্প আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যের অংশ। একসময় বাংলার ঘরে ঘরে কুটির শিল্পের চর্চা ছিল। বর্তমান সময়ে আধুনিকতার ভিড়ে সেই ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই এই শিল্পকে নতুনভাবে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় শিল্প ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“দেশীয় কুটির শিল্প শুধু ঐতিহ্য নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। নারীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে কুটির শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রতিটি ঘরে ঘরে যদি কুটির শিল্পের বিকাশ ঘটে, তাহলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাও আরও শক্তিশালী হবে।”
তিনি চাঁদপুর প্রেসক্লাবের এমন উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে বলেন, গণমাধ্যম শুধু সংবাদ পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ নয়, সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন ও স্থানীয় সংস্কৃতি বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনী দেশীয় শিল্পের প্রসারে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রদর্শনীতে স্থানীয় কারিগর ও উদ্যোক্তাদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের দেশীয় পণ্য ও হস্তশিল্প স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নকশিকাঁথা, হাতে তৈরি পোশাক, মাটির তৈজসপত্র, বাঁশ ও বেতের সামগ্রী, শোপিস, গ্রামীণ অলংকার, কাঠের তৈরি নান্দনিক পণ্য, পাটজাত দ্রব্যসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী। প্রদর্শনী ঘুরে দেখতে আসা দর্শনার্থীরা দেশীয় পণ্যের বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্যে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে দেশীয় শিল্প ও সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে কুটির শিল্পের বিকাশ অত্যন্ত জরুরি। বিদেশি পণ্যের আগ্রাসনের মধ্যেও দেশীয় পণ্য ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি গ্রামীণ শিল্পীদের প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ সুবিধা ও বাজারজাতকরণের সুযোগ বৃদ্ধি করা গেলে কুটির শিল্প দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের নির্মাণাধীন নতুন ভবনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিমুল্লাহ সেলিম। এ সময় প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। নতুন ভবনের বিভিন্ন অবকাঠামোগত কার্যক্রম ঘুরে দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মাসব্যাপী এ কুটির শিল্প প্রদর্শনীতে প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। স্থানীয় শিল্প ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

