চাঁদপুরে বাবার স্মৃতিবিজড়িত খালের পুনঃখনন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
মোঃ জাবেদ হোসেনঃ দীর্ঘ ৪৬ বছর পর আবারও চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার উয়ারুক এলাকায় ফিরে আসছে ঐতিহাসিক খোদ্দ খাল প্রকল্প। বাবার স্মৃতিবিজড়িত সেই খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে আগামী ১৬ মে চাঁদপুর সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরকে ঘিরে ইতোমধ্যেই জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার উয়ারুক এলাকায় খোদ্দ খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। সেই সময় কৃষি, সেচব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে খালটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সময়ের ব্যবধানে খালটি নাব্যতা হারিয়ে ফেলে এবং স্থানীয় কৃষকরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। অবশেষে দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে পুনরায় খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যক্তিগত আগ্রহ থেকেই বাবার স্মৃতিবিজড়িত এই খালের পুনঃখনন কাজ উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি ঘিরে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও আবেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে প্রবীণরা ১৯৭৮ সালের স্মৃতিচারণ করে বলছেন, “যে খাল একসময় এই অঞ্চলের কৃষি ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন এনেছিল, সেটি আবারও নতুন রূপে ফিরে আসছে।”
প্রধানমন্ত্রীর চাঁদপুর সফরকে কেন্দ্র করে শাহরাস্তির কর্মসূচিতে কয়েক দফা পরিবর্তন আনা হয়। প্রথমে উপজেলার কাকৈরতলা এলাকায় মেহের গোদা খাল খনন প্রকল্প উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে ৯ মে পুনরায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে উয়ারুকের ঐতিহাসিক খোদ্দ খালেই উদ্বোধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আয়েত আলী ভূঁইয়া।
তিনি জানান, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে খোদ্দ খাল প্রকল্পে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কারণ এটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত। তাই আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পুনরায় উয়ারুককেই উদ্বোধনের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।”
খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী হাজীগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন। এ জনসভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। দীর্ঘ ২২ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর চাঁদপুর সফরকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সফর সফল করতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে সভাস্থল, সড়ক, খালপাড় ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জার কাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ করা হচ্ছে তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুন। দলীয় নেতাকর্মীরা গ্রামগঞ্জে চালাচ্ছেন গণসংযোগ ও প্রস্তুতি সভা।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত কয়েকটি মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন বলেও জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ এবং চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। স্থানীয়রা মনে করছেন, এসব প্রতিষ্ঠান চালু হলে জেলার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।
এছাড়াও কৃষিখাত উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সেচ সুবিধা বাড়াতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে তিনি স্থানীয় সুধী সমাবেশে যোগ দেবেন এবং পরে হাজীগঞ্জে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন। সফরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে পুরো চাঁদপুর জেলা জুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। স্থানীয় জনগণ আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মাধ্যমে জেলার উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

