বটিয়াঘাটা সরকারি ডিগ্রী মহাবিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী অধ্যক্ষ অমিতেষ দাসের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ

সেখ রাসেল, বিভাগীয় প্রধান, খুলনা:
খুলনার বটিয়াঘাটা সরকারি ডিগ্রী মহাবিদ্যালয়ে অধ্যক্ষ হিসেবে অমিতেষ দাস ২০১২ সালে যোগদান করেন। তৎকালীন আওয়ামী সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে নানা অনিয়ম-দূর্নীতির সাথে যুক্ত হন। আওয়ামী সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষী হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে সাহস পায়নি। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে অবসর গ্রহণকালে কলেজের সকল হিসাব কিতাব যখন বুঝিয়ে দিতে যান তখন দেখা যায়। ২০১৭ সালে কলেজটি জাতীয় করন হওয়ার স্বার্থে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০/০৪/২০১৭ তারিখ ৩৭.০০.০০০০..০৭০.০২.০৪৪. নং স্মারক অনুযায়ী ১৪/০৫/২০১৭ তারিখ ২৯৫৮/১৭ নং ডিড অব গিফট বা দানপত্র দলিলের মাধ্যমে কলেজের স্থাবর অস্থাবর সম্পদ সহ সকল কিছু সরকারের কাছে দানপত্রের মাধ্যমে আদেশ দেওয়া হয়।

অধ্যক্ষ অমিতেষ দাস দানপত্র দলিলে সকল কিছু হস্তান্তর করলেও কলেজের নামে বটিয়াঘাটা সোনালী ব্যাংকের একটি ২৭০৩ ৭৩৪১২৫ ০৮১ একটি একাউন্ট হস্তান্তর না করে গোপনে বিভিন্ন উৎসের মাধ্যমে আয়ের ৩/৪ লক্ষ টাকা অত্যন্ত চতুরতার সাথে গোপনে কলেজের নিজের আয়াত্তে রেখে অবসর গ্রহণের পূর্বে ৩/৪ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন। যা ফৌজদারী অপরাধ।

এ বিষয়ে একাউন্টেন্ট মনি মোহন রায় এর কাছে আমরা বটিয়াঘাটা প্রেসক্লাবের কয়েক জন সাংবাদিক জানতে চাইলে তিনি বলেন, উক্ত একাউন্ট থেকে আমাকে দিয়ে বিভিন্ন সময় টাকা উত্তোলন করে নিজের কাছেই রাখতেন, যার কোন রেজুলেশন বা ভাউচার করা হয়নি। এছাড়া কলেজের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রাপ্তদের কাছ থেকে কলেজ উন্নয়নের জন্য যে টাকা গ্রহণ করা হয় সেই টাকারও কোন হদিস নাই বা টাকাটি কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে তারও কোনো বিল ভাউচার না। কৃষি জমি, পুকুর, দোকান ভাড়া ও গাছ বিক্রি হতে ৪/৫ লক্ষ্য টাকা কলেজের কোন ফান্ডে জমা হয় নাই। ২০২১ সালে বিজ্ঞান মেলা না হলেও তার বিল ভাউচার করে হাজার হাজার টাকা আত্মসাৎ, নুতন কলেজ ভবন নির্মাণের আগে পুরাতন কলেজের ইট, সুরকি, পুরাতন টিন বিক্রি করে সে টাকাটি ও তার নিজের পকেট ভারি করে। এ বিষয়ে নিয়োগ প্রাপ্ত দুইজন শিক্ষক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারা বলেন, আমাদেরকে যে সময় নিয়োগ দেয়া হয়েছে সেই সময় আমরা ৭ থেকে ৮ জন নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছিলাম। আমরা সকলে ২০/২৫ হাজার টাকা কলেজের উন্নয়নের জন্য দিয়েছিলাম। সার্বিক বিষয়ে জানতে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুকুমার মল্লিক এর কাছে জানতে চাইলে উনি সাংবাদিকদের সাথে কোন বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি । অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অমিতেষ দাসের কাছে ০১৭১৬-৮৬২২৬৭ নম্বর মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে উনি কোন বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *