খুলনা প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিকদের লাঞ্ছনা, সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ, সংকেতটা কেমন: চুপ থাকো, না হলে এর চেয়েও খারাপ হবে।
সেখ রাসেল, খুলনা বিভাগীয় প্রধান:
খুলনা প্রেসক্লাবে ঢুকে কর্মরত সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে সাংবাদিকেরা বিক্ষোভ করেছেন।
পূর্বে থেকে খুলনা প্রেসক্লাবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চলছিল। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত সভাপতি প্রার্থী সাংবাদিক মোস্তফা সরোয়ারের নাম ধরে ডাকাডাকি ও গালিগালাজ করতে থাকে। এর মধ্যে এখন টেলিভিশন খুলনার বিশেষ প্রতিনিধি মো. তারিকুল ইসলামের ওপর হামলা করে। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। হামলার পরপরই প্রেসক্লাবে অবস্থানরত সাংবাদিকরা প্রতিবাদে ফেটে পড়েন এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এতে আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৩০ এপ্রিলের নির্বাচন ঘিরে খুলনা প্রেসক্লাবে প্রচারণা চলছিল। ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রেসক্লাবের নির্বাচনি পরিবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা থাকলেও তা কখনোই সহিংসতায় রূপ নেওয়ার কথা নয়। কিন্তু একদল সন্ত্রাসী হঠাৎ ঢুকে তর্ক জুড়ে দেয়, গালিগালাজ করে এবং নির্দিষ্ট একজন সভাপতি প্রার্থী, সাংবাদিক মোস্তফা সরোয়ারের নাম ধরে আক্রমণাত্মক আচরণ করে। এর মধ্যেই এখন টেলিভিশনের প্রতিনিধি তরিকুল ইসলামের ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয়। এটি কোনো আকস্মিক উত্তেজনা নয়, এটি ছিল স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার চেষ্টা, চুপ থাকো, না হলে এর চেয়েও খারাপ হবে।
এখানেই সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। কারণ সাংবাদিকদের ওপর হামলা মানে শুধু একজন ব্যক্তিকে আঘাত করা নয়, এটি একটি প্রতিষ্ঠানের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা। এটি সেই কলমের ওপর আঘাত, যা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে। এটি সেই চোখের ওপর আঘাত, যা সত্যকে দেখে এবং দেখায়। হামলার পর সাংবাদিকদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, এটি স্বাভাবিক এবং যৌক্তিক। কারণ যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগে থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তখন প্রতিবাদই হয়ে ওঠে একমাত্র ভাষা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন বারবার সাংবাদিকদেরই রাস্তায় নামতে হচ্ছে নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে?
প্রেসক্লাবে অবস্থানরত সাংবাদিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁরা প্রেসক্লাবের সামনের সড়ক অবরোধ করে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাত। অবিলম্বে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এ সময় সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম (মনা)। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সমকালের স্টাফ রিপোর্টার হাসান হিমালয়। রাত ৯টা পর্যন্ত প্রেসক্লাবের সামনের সড়ক অবরোধ করে রাখেন সাংবাদিকেরা।
আমি বিশ্বাস করি, খুলনার সাংবাদিকরা এখনও সেই শক্তি রাখেন। তারা যদি আবারও এক হয়ে দাঁড়ান, তাহলে এই ছিঁচকে সন্ত্রাসীরা লেজ গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হবে। কারণ ইতিহাস বলে, সত্যকে সাময়িকভাবে থামানো যায়, কিন্তু চিরতরে দমন করা যায় না। এখন সময়, কথার নয়, কাজের। সময়, ঐক্যের। সময়, প্রতিরোধের।

