পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় জুনিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

সভাপতির একক সিদ্ধান্তে নিয়োগে বিতর্ক, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

মোঃ মনিরুল ইসলাম চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার, পিরোজপুর:
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে অবস্থিত জুনিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে চরম সংকটের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা।
১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০০১ সালে এমপিওভুক্ত এই মাদ্রাসায় বর্তমানে ১৬ জন শিক্ষক ও ৪ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তবে পরিচালনা কমিটি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইঞ্জিনিয়ার মোঃ নুরুল আমিন তালুকদার। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে কোনো নির্বাচন ছাড়াই তার ছেলে শাকিল পারভেজ তালুকদারকে সিলেকশনের মাধ্যমে সভাপতি করা হয়, যা শুরু থেকেই স্থানীয়দের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি করে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৯ মাস আগে কমিটি গঠিত হলেও বর্তমান সভাপতি একদিনের জন্যও মাদ্রাসায় উপস্থিত হননি। এমনকি শিক্ষক ও কমিটির সদস্যদের নিয়ে কোনো সভাও অনুষ্ঠিত হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসার গুরুত্বপূর্ণ রেজুলেশন খাতা সভাপতি নিজের ঢাকার বাসায় নিয়ে রেখেছেন, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।
এদিকে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ক্লার্ক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা প্রতিষ্ঠানে হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। কামাল হোসেন নামের একজনকে ক্লার্ক পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনি এখনো যোগদান করেননি এবং হাজিরা খাতায় তার নামও নেই। তবে মার্চ ২০২৬ মাসের বেতন সিটে তার নামে বেতন উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।
নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি জানান, তিনি এখনো ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে কর্মরত এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে যোগদান করতে পারেননি।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ বেলায়েত হোসেন বলেন,উল্লিখিত বিষয়গুলো আমার সিদ্ধান্তে হয়নি, এগুলো সভাপতির সিদ্ধান্তে হয়েছে। এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।অন্যদিকে, সভাপতি শাকিল পারভেজ তালুকদার মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান, তিনি ওই মাদ্রাসার সভাপতি নন। এমনকি তিনি প্রশ্ন তোলেন তিনি কিসের সভাপতি, সেটিও তিনি জানেন না।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সভাপতির পরিবারিক প্রভাবেই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে এবং ক্লার্ক নিয়োগে আর্থিক লেনদেন হয়েছে। তাদের ভাষ্য, “বাপ-ছেলে মিলে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছে।এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বর্তমান কমিটি বাতিল, অবৈধ নিয়োগ প্রত্যাহার এবং স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পুনঃনিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দ্রুত তদন্ত করে প্রতিষ্ঠানটির সুশাসন ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *