জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক নিয়ে যা জানা গেলো, এটা কি ১১ দলীয় জোটকে দমাতে ষড়যন্ত্রমূলক হ্যাক
সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক:
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের বিষয়ে করা একটি পোস্ট নিয়ে তুমুল শোরগোলের মধ্যেই তিনি ও তার দল জানিয়েছেন যে, ওই অ্যাকাউন্টটি শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে কিছুক্ষণের জন্য হ্যাক হয়েছিল এবং সেই সময়ের মধ্যেই ওই পোস্টটি করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী বলছে, ওই পোস্টটি মি. রহমান বা তার অ্যাকাউন্টের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা করেননি বরং বিষয়টি তাদের দৃষ্টিতে পড়ার পর তারা মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যেই অ্যাকাউন্টটি হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণ থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পেরেছিলেন। এই হ্যাকিংয়ের সাথে ‘একটি বিশেষ দল ও তাদের সাইবার টিম জড়িত’ বলে আজ রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। মার্ক টোয়েন বলেছিলেন, “History doesn’t repeat itself, but it often rhymes.” বর্তমান যুগে ক্ষমতার লড়াই শুধু রাজপথ বা ব্যালট বাক্সে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে ডিজিটাল স্পেস বা সাইবার জগতেও। যখন কোনো রাজনৈতিক শক্তির জনসমর্থন তুঙ্গে থাকে এবং প্রতিপক্ষ আদর্শিকভাবে লড়াই করতে ব্যর্থ হয়, তখন তারা সাধারণত চোরাগোপ্তা আক্রমণের পথ বেছে নেয়।
জামায়াতকে টার্গেট করে বড় ষড়যন্ত্র! বিএনপি–ছাত্রদল–রাষ্ট্রপতির অফিসের যৌথ প্রোপাগান্ডা ফাঁ’স। হ্যাকারের আইপি এ্যড্রেস, ফিশিং ফাইল চেক করে দেখা গেছে, রাষ্ট্রপতির ভবন বা বঙ্গভবন চুপ্পু এর এ্যাসিটেন্ট প্রোগ্রামার সারোয়ার এর মেইল থেকে। তাহলে বলা যায় রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র। ৪.৩৭ মিনিটের সময় আইডিটি হ্যাক করে, তখন শফিকুর রহমান বক্তৃতা দিচ্ছিলেন, ১ মিনিটের মধ্যে লেখাটি টাইপিং না করে কপি পেস্ট করে স্কিন শর্টটি নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে আইডি থেকে বেরিয়ে আসে এবং আইডিটি পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে দেয়। সামান্য কিছু সময়ের মধ্যে ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ রাকিবুল হাসান রাকিবুলের তার আইডি থেকে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়।
কেনো এই ঘটনার পর জামায়ত চুপ থাকার কারণ: প্রধান কারণ হলো, কোথা থেকে কিভাবে এই ষড়যন্ত্র হচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে তারা চুপ ছিলো এবং একটি রাজনৈতিক দল কিভাবে প্রপাগান্ডা চালায় তার প্রমাণ জাতির সামনে তুলে ধরতে দেরি করেছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি আল–জাজিরার ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার জামায়াতে ইসলামীর আমির পদে নারী আসা সম্ভব নয় বলে আলোচনাকে কেন্দ্র করে এমন একটি নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্র করেছিলো বলে ধারণা করে হচ্ছে। তবে এটা স্পষ্ট যে, এর সাথে কু-চক্রী রাজনৈতিক মহল ও জামায়াতকে ক্ষমতায় যেতে বাধা দিতে কয়েকটি মহল এর সাথে জড়িত। প্রথমত এই পোষ্টটি চোখে পড়া মাত্রই যাচাই বাছাই না করে, ষড়যন্ত্র, ন্যাকারজনক ভাষায় প্রতিবাদ করছে, বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন দলগুলো। বাংলার মানুষ এখন এতোটা অবুঝ নেই, বিষয়টি সকলে বুঝতে পেরেছে, জনগণ ও নারীরা এর জবাব ১২ তারিখে দিবে বলে আমরা আশাবাদি।
এ বিষয় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শেহরিন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী) নিজস্ব অভিমত দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, আসলেই এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। শেষে ঢাবির এই শিক্ষিকা লিখেছেন, ‘সামান্যতম সাধারণ বোধ যাদের আছে, তারা সবাই বুঝবে—নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে কোনো দলই নিজেকে নিজে ধ্বংস করার মতো কাজ করবে না।’ বাংলাদেশের নারীরা এখন এতোটা বোকা নেই যে, এগুলো বিশ্বাস করবে, তারাও অনলাইন সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন।
ওদিকে সারাদেশে ওই পোস্ট নিয়ে তুমুল সমালোচনার ৯ ঘণ্টা পর আইডি হ্যাকের দাবি করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। ওই পোস্টে কর্মজীবী নারীদের অবমাননা করা হয়েছে অভিযোগ করে এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল। সামাজিক মাধ্যমেও এ নিয়ে অনেকের সমালোচনার মুখে পড়েছেন জামায়াতের আমীর ও তার ১১ দলীয় জোট। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘আমরা দেখলাম, এই দলটি প্রকাশ্যে বারবার ঘোষণা দিয়েছে, তাদের দলের প্রধান পদে কোনো নারী কখনোই আসতে পারবে না। অথচ তাদের নারীরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের এনআইডি কার্ড ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। এটাই কি তাদের তথাকথিত ইনসাফ?
বিষয়টি নিয়ে শনিবার রাতেই হাতিরঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় জামায়াতের পক্ষ থেকে। জিডিতে শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেল হ্যাক করে নারী অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। জামায়াত আমির শফিকুর রহমান ও দলের পক্ষে জিডি করেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম।
এ বিষয় নিয়ে জামায়াত ইসলামের নেতা কর্মীরা খুবই দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, প্রায় প্রতিটি অপকৌশলে একটি দল ফেঁসে যাচ্ছে, তারপরও কিঞ্চিৎ পরিমাণ লজ্জা হয় না তাদের? জনগণ প্রধান কয়েকটি দল কে দেখেছে, ক্ষমতায় গিয়ে তারা কিভাবে জাতির সাথে বেঈমানী করেছে। মাত্র ১০ দিন পরে জাতীয় নির্বাচন, জনগণ চাই চাঁদাবাজ মুক্ত, দখলমুক্ত, মামলাবাজ মুক্ত দলকে তথা জামায়াত ইসলামকে ক্ষমতায় দেখতে। যে কারণে একটি কু-চক্রীমহল নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে, না পেরে অবশেষে একটি ন্যাকারজনক কাজ করলো। জাতীর কাছে প্রত্যাশা ১২ তারিখে দাড়িপাল্লা ও হ্যাঁ ভোটকে জয়যুক্ত করে এর জবাব দিবে।

