বৈঠকের কথা ভারতের পক্ষ থেকে গোপন রাখতে বলা হয়েছিল, ডা. শফিকুর রহমান
সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গত বছর/২৫ শুরুতে এক ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার তথ্যও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারতীয় ওই কূটনীতিকই তাকে বৈঠকটি গোপন রাখতে বলেছেন। এজন্য এটি গোপন রাখা হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম রয়টার্স । ভারতের সঙ্গে বৈঠকটি গোপনীয় নয় বলে দাবি করেছেন জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত সংবাদের নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এসব কথা বলেন জামায়াতের আমির।
শফিকুর রহমান লিখেছেন, আন্তর্জাতিক মিডিয়া রয়টার্স–কে গতকাল দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রয়টার্সের একজন সাংবাদিক আমাকে জিজ্ঞেস করেন—ভারত যেহেতু আপনাদের প্রতিবেশী দেশ, তাদের সঙ্গে আপনাদের কোনো যোগাযোগ আছে কি না, কোনো কথাবার্তা বা বৈঠক হয় কি না।
এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আগামী নির্বাচনের পর যেসব দল সরকার গঠন করতে পারে তাদের সঙ্গে ভারত তাদের যোগাযোগের পরিধি বাড়িয়েছে। এমন সময় জামায়াত আমির নিশ্চিত করেছেন এ বছরের শুরুতে এক ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। যদিও অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা তার সঙ্গে প্রকাশ্যে দেখা করেছেন। কিন্তু ভারতীয় কর্মকর্তা জামায়াত আমিরের সঙ্গে হওয়া বৈঠকের বিষয়টি গোপন রাখতে বলেছেন।
তিনি লিখেছেন, আমি তখন বলেছিলাম, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে আমি অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসা শেষে যখন বাসায় ফিরি, তখন দেশ-বিদেশের অনেকেই আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। অন্যান্য দেশের সম্মানিত কূটনৈতিকবৃন্দ যেমন এসেছেন, তেমনি তখন ভারতের দুজন কূটনীতিকও আমাকে দেখতে আমার বাসায় এসেছিলেন। অন্যান্যদের মতো তাদের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে।
ভোটের পর জাতীয় সরকারে যোগ দিতে আগ্রহী জামায়াতভোটের পর জাতীয় সরকারে যোগ দিতে আগ্রহী জামায়াত। ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমাদের সবাইকে অবশ্যই একেঅপরের সঙ্গে খোলামেলা হতে হবে। আমাদের সম্পর্ক ভালো করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।” ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে জামায়াত আমিরের সঙ্গে তাদের কূটনীতিকের বৈঠকের বিষয়টি সরাসরি নিশ্চিত করেনি তারা। কিন্তু ভারত সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন দলের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে ‘ঐতিহাসিক’ সম্পর্কের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা সবার সঙ্গে ভারসামপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখি। আমরা কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকতে আগ্রহী নই। এরবদলে আমরা সবাইকে সম্মান করি এবং সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক চাই। তিনি আরও বলেন, কোনো সরকার বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে স্বস্তিতে থাকবে না। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি হন সাহাবুদ্দিন। তিনি নিজেও সম্প্রতি রয়টার্সকে বলেছেন, প্রয়োজনে মেয়াদের মাঝপথে পদ ছাড়তে তিনি প্রস্তুত। তবে রয়টার্সের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, আমি বিষয়টি আরও জটিল করতে চাই না।
জামায়াত আমির লিখেছেন, আমরা তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার সময় বলেছিলাম, যত কূটনীতিক এখানে এসেছেন, তাদের সকলের বিষয়েই আমরা পাবলিসিটিতে দিয়েছি। আপনাদের এই সাক্ষাৎও আমরা পাবলিসিটিতে দিতে চাই। তখন তারা আমাকে এটি না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। আমরা বলেছিলাম, পরবর্তীতে যখনই আপনাদের সঙ্গে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈঠক হবে, তা অবশ্যই পাবলিসিটিতে যাবে। এখানে গোপনীয়তার কিছু নেই। শফিকুর রহমান লিখেছেন, আমি বিস্মিত যে, আমাদের কিছু দেশীয় মিডিয়া ভারতের সঙ্গে জামায়াত আমীরের গোপন বৈঠক হয়েছে বলে সংবাদ পরিবেশন করেছে। আমি এ ধরনের সংবাদের তীব্র নিন্দা জানাই এবং ভবিষ্যতে প্রকৃত বিষয় না জেনে এমন বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাই।

