যাদের নিয়ে জোট করতে চান, জানালেন হাসনাত অপরদিকে ‘আপনাদের জন্য বঙ্গোপসাগর অপেক্ষা করছে’ বলে মন্তব্য চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম

সেখ রাসেল, সহকারী দপ্তর সম্পাদক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, সংস্কারের পক্ষে, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির পক্ষে যারা আছে তাদের নিয়ে আমরা জোট গঠন করতে পারি। তবে যারা সংস্কারের বিপক্ষে, সংস্কার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেছে, চব্বিশের জনআকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে তাদের সঙ্গে এনসিপির কোনো নির্বাচনি এলায়েন্স সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জে জেলা সমবায় ভবনের নবম তলায় এনসিপির জেলা কার্যালয় উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, নির্বাচনে এলায়েন্স, গণভোট, দেশের সামগ্রিক স্বার্থে আমরা এনসিপি সব সময় ছাড় দিয়ে এসেছি। আমরা সংস্কারের পক্ষে, জাতীয় ঐকমত্যের পক্ষে সব সময় ছাড় দিয়ে এসেছি। সংস্কার, ঐকমত্যের প্রশ্নে যে দলগুলো আসতে চায় তাদের নিয়ে পরবর্তী নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা করব। তিনি বলেন, নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে এসসিপির প্রাথমিক প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হবে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুসংহত করতে না পারলে আগামী নির্বাচন কোনো অবস্থাতেই সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদুর রহমান তনুসহ এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

অপরদিকে কিছুটা ভিন্নভাবে একই সুরে চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, যারা ফ্যাসিস্ট হওয়ার চিন্তা করছেন, যারা জুলাই আন্দোলনের আইনী ভিত্তি চায়না, যারা গণভোট নিয়ে টালবাহানা করছেন- আপনারা পালাবেন কোথায়? আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছে সেই দক্ষিণের বঙ্গোপসাগর। এছাড়া কিন্তু আপনাদের পালানোর কোনো জায়গা নেই। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে পাঁচ দাবিতে ৮টি রাজনৈতিক দলের সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতি রেজাউল করিম বলেন, বাংলাদেশে দুই শ্রেণির মানুষ এখন দুই মেরুতে অবস্থান করছে। এক শ্রেণির আমরা যারা দেশপ্রেমিক, আরেক শ্রেণি হলো ক্ষমতাপ্রেমী। আওয়ামী লীগ সরকার দেশপ্রেমিক ছিল না, তারা ছিল ক্ষমতাপ্রেমী। তারা কিন্তু একপর্যায়ে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে অবস্থান করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বুঝে গেছে আপনাদের উদ্দেশ্য ভালো না। যদি আপনাদের উদ্দেশ্য ভালোই হয়ে থাকে, যেখানে আইনি ভিত্তির ব্যাপারে আপনারা একমত পোষণ করেছেন। সেখানে গণভোটে এত গড়িমসি কেন? এটা জাতির কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারকে বলব আমরা শান্তিপ্রিয়, বারবার রাস্তায় রোদে আমাদের পোড়াচ্ছেন- আর কত রাস্তায় নামতে হবে?

ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, এরপর আমরা বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ নিয়ে এমন কর্মসূচি ঘোষণা করবো, আপনি গণভোট নির্বাচনের আগে দিতে বাধ্য হবেন। আমাদের ওই পথে আপনারা হাঁটাবেন না। আমরাও ওই পথে হাঁটতে চাই না। আজকের জাতীয় সমাবেশের মাধ্যমে আপনাদের আমরা বারবার অনুরোধ করছি। এরপরও যদি আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় না হয় তাহলে কিন্তু পরে আমরা কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *