নির্বাচন পেছালে দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে : মির্জা ফখরুল, অন্যদিকে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া নির্বাচন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই: ডা: শফিকুর রহমান।
অপরাধ তথ্যচিত্র ডেস্ক: নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘নির্বাচন পেছালে দেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।’ নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত কে কে লক্ষ্মীরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, জামায়াত-এনসিপি নির্বাচনকে ভয় পায়। পিআর পদ্ধতির কথা বলে তারা নির্বাচনটাকে পেছাতে চায়। নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নাই, নির্বাচন পেছালে দেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সংস্কারের যেসব বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি, তার বাইরে কিছু জোর করে চাপিয়ে দিলে এর সমস্ত দায় এ সরকারকেই নিতে হবে।’ শেখ হাসিনা সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘হাসিনা দিল্লিতে বসে হরতাল ঘোষণা করছে। দলের ছেলেদের দিয়ে গাড়ি বহর পোড়াচ্ছে, আর সে দিল্লিতে আরামে বসে আছে। তাই তার উদ্দেশ্যে বলছি সাহস থাকলে, জনগণের প্রতি ভালোবাসা থাকলে, দেশে আসো আমাদের মতো জেল খাটো, তারপর কথা হবে।’ আওয়ামী লীগ সন্ত্রাস নিয়ে টিকে থাকতে চায় বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।
অন্যদিকে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া নির্বাচন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘যারা জুলাই বিপ্লব মানবে না, তাদের জন্য ২৬ সালের কোনো নির্বাচন নাই। ২৬ সালের নির্বাচন দেখতে হলে আগে জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতি লাগবে।’ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) পাঁচ দফা দাবিতে ঢাকার পল্টনে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিসসহ আটটি দলের ডাকা সমাবেশে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের মুক্তিকামী মানুষের কথা একটাই- জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে হবে। গণভোটের ব্যাপারে সকল দল একমত। তাহলে তারিখ নিয়ে এই বায়নাবাজি কেন?’ ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা সব দল একমত হয়ে স্বাক্ষর করেছি, তখন আগে ভোট হওয়াই যুক্তিযুক্ত। এর মধ্যে দিয়েই আইনি ভিত্তির পাটাতন তৈরি হবে ইনশাআল্লাহ এবং এর ভিত্তিতেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ তিনি বলেন, ‘ওই নির্বাচন যখন অনুষ্ঠিত হবে তখন আর কোনো সংশয় সন্দেহ থাকবে না। আমরা চাই আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। এটা নিয়ে কেউ ধুম্রজাল সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাবেন না। উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে ফেলবেন না।’ তিনি বিএনপির প্রতি প্রশ্ন রাখেন, ‘জুলাই সনদেই যদি জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখান জাতীয় নির্বাচনে জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবেন কিভাবে?’ জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি বাস্তবায়ন, নভেম্বরে গণভোট, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ আট দল। এ সমাবেশে যোগ দিতে দুপুরের আগে থেকেই পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় জড়ো হন আটটি দলের নেতাকর্মীরা।

