চট্টগ্রামে দুই খুনে জড়িত বেলাল ও মানিক গ্রেফতার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এক্সে রোডে প্রাইভেটকার ধাওয়া করে ব্রাশফায়ারে দুই খুনে জড়িত মোহাম্মদ বেলাল ও মোহাম্মদ মানিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃৃহস্পতিবার ভোরে নগরের বহদ্দারহাট ও ফটিকছড়ি উপজেলা থেকে তাদের ধরা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানিয়েছে, খুব কাছ থেকেই গুলি চালিয়ে বখতিয়ার হোসেন ও আবদুল্লাহ রিফাতকে খুন করা হয়। গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ বেলাল নগরের চান্দগাঁও থানার খাজা রোডের বাদামতল এলাকার মো: রফিকের সন্তান। আর মোহাম্মদ মানিক ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার আবুল হাশেমের সন্তান।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গুলি চালানো কয়েকজনকে শনাক্ত করেছি। বেলাল নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যিনি হামলার সময় ক্রিম-রঙের টি-শার্ট পরেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে সরাসরি প্রাইভেট কারের দিকে গুলি চালাতে দেখা গেছে। এ ছাড়া কিলিং মিশনে থাকা মানিককেও ধরা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাম্মেল হক জানান, মোট ১৩ জন সন্ত্রাসী ছয়টি মোটরসাইকেল ব্যবহার করে এই পরিকল্পিত হামলা চালায়। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বোয়াজিদ বোস্তামি এলাকার তালিকাভুক্ত অপরাধী সরওয়ার হোসেন বাবলা, যিনি শেষপর্যন্ত প্রাণে বেঁচে যান। এ হামলার পেছনে দু’টি উদ্দেশ্য ছিল- বায়েজিদ বোস্তামি ও আশপাশের এলাকার অপরাধীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন প্রকাশ ছোট সাজ্জাদ গ্রেফতারের প্রতিশোধ নেয়া।

৩০ মার্চের এ ঘটনায় ১ এপ্রিল সন্ধ্যায় বাকলিয়া থানায় খুনের শিকার বখতেয়ার উদ্দিন মানিকের মা ফিরোজা বেগম বাদি হয়ে কারাবন্দী শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীর পরিকল্পনা অনুসারে আসামিরা গুলি করে মানিকসহ দুইজনকে হত্যা করেছে।

এজাহারে বলা হয়, সারোয়ার হোসেন বাবলার গাড়িচালক ছিলেন গুলিতে নিহত মানিক। আর সারোয়ারের ব্যক্তিগত কাজকর্ম করতেন নিহত আবদুল্লাহ। গত ২৯ মার্চ রাতে প্রাইভেটকারে করে নতুন ব্রিজ এলাকায় আড্ডা দিচ্ছিলেন মানিক, সারোয়ার, আবদুল্লাহ, রবিন, হৃদয় ও ইমন। নতুন ব্রিজ থেকে বাড়ি ফেরার সময় রাত ২টার দিকে রাজাখালী ব্রিজে পৌঁছামাত্র ছয়-সাতটি মোটরসাইকেল থেকে প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুলিতে গাড়ির পেছনের গ্লাস ছিদ্র হয়ে যায়। তখন মানিক বহদ্দারহাটের দিকে না গিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোড দিয়ে চকবাজারের দিকে যান। রাত সোয়া ২টার দিকে চকবাজার থানার নবাব সিরাজউদ্দৌলা সড়কে মানিককে গুলি করে গাড়ি থামানো হয়। গাড়ির পেছনে থাকা হাছান, ইমন, বোরহান, খোরশেদ, রায়হানসহ অজ্ঞাত ছয়-সাতজন তাদের হাতে থাকা অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করেন। গুলিতে মানিক ও আবদুল্লাহ জখম হন। গাড়িতে থাকা সারোয়ার এবং ইমন কৌশলে নেমে যান। এরপর গুলি ছুড়তে থাকা ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। মানিক ও আবদুল্লাহকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জানতে চাইলে সাজ্জাদের স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না বলেন, আমি দুই মাসের সন্তান সম্ভবা। আমার অপরাধ একজনকে আমি ভালোবেসে বিয়ে করেছি। সবাই বলছে, আমার স্বামীকে ধরিয়ে দেয়ায় নাকি প্রতিশোধ নিয়েছি। আমার স্বামীকে তো সরোয়ার ধরিয়ে দেয়নি। ধরিয়ে দিয়েছে সূচি নামে এক মেয়ে। বালু মহালে বড় সাজ্জাদ ও সরোয়ার ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তাদের আধিপত্য নিয়ে এই ঝামেলার সৃষ্টি হয় বলে আমি জানতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *