কালীগঞ্জ থানার এসআই জাকারিয়া’র বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোসহ অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ।
লালন মন্ডল, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই জাকারিয়ার মাসুদের,নামে অর্থ-বানিজ্যসহ মিথ্যা ও ভুয়া মামলায় আসামীদের ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে তথ্য্রদানকারী পরিবার ও সোর্সদের উপর হুমকি ধামকি দিতে শুরু করেছেন এই পুলিশ অফিসার। দীর্ঘদিন একই থানাতে অবস্থান করার কারনে মাদকের বিরুদ্ধে সফল অভিযানের মাধ্যমে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হন তিনি।
মাদক অভিযানের সফলতাকে পুঁজি করে উপজেলার মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে একটি বলয় তৈরি করেছেন। যে কারনে কালীগঞ্জ থানাতে বিগত কয়েক মাস যাবত মাদকের বিরুদ্ধে তেমন কোন উল্লেযোগ্য অভিযান পরিচালিত হতে দেখা যাইনি।
গত ১১মে ২২ তারিখে ব্রিকফিল্ড এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রুবিকে মাদক বহনকালে সন্ধ্যা ৭টার দিকে এএসআই মোজলেম ও কনস্টবল আনোয়ার হাতেনাতে আটক করে। মহিলা পুলিশ দিয়ে সার্চ করার জন্য থানায় নেওয়ার সময় এসআই জাকারিয়া মাসুদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত এএসআইকে ফোন দিয়ে ছেড়ে দিতে বলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে বদলি করা হয়েছে এবং মাদক ব্যবসায়ী রুবিকে দিয়ে টাকা নেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানান কনস্টবল আনোয়ার।
এছাড়াও মাদক মামলার আসামী মিন্টু শেখ জানান,গত ১৯ নভেম্বর ২১ সালে কালীগঞ্জ ঢাকালে পাড়ায় আনুমানিক রাত ১ দিকে আমাকে নিজ বাড়ি নদী পাড়া(ব্রীজ সংলগ্ন)থেকে এএসআই তানভীর ও সঙ্গীয় ফোর্সসহ গাজা সেবন কালে আটক করে। প্রায় ২ঘন্টা যাবত আমার ঘরে অবস্থান করে ১৫হাজার থেকে ৫হাজার টাকা পর্যন্ত দেনদরবারের ব্যর্থ হওয়াই এসআই জাকারিয়াকে ডেকে এনে স্থানীয় টায়ার মিস্ত্রি হযরতের স্বাক্ষীতে থানা হাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীদিন আমাকে ২ শত গ্রাম গাজা ও ২০ পিচ ইয়াবাসহ চালন দেওয়া হয়। ঐ দিন আমার কাছে শুধুমাত্র ২ পুরিয়া গাজা সেবন অবস্থায় আমাকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।
২পুরিয়া গাজা থাকার কথা স্বীকার করেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বাক্ষী হযরত। তবে এএসআই তানভীর অপারেশনের সত্যতা স্বীকার করলেও কনস্টেবল মাসুদ ও আসামী মিন্টুর ফোনালাপে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসে। এই মামলায় ঢাকালে পাড়ার মৃত গোলাম রসুলের ছেলে জুয়েলকে ২নং ও বশির দাফাদারের ছেলে জাকিরকে ৩নং আসামী করা হয় এবং মিন্টু শেখের ঘরে থাকা নিজ ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ দেখিয়ে থানাতে নিয়ে যাওয়া হয়। আসামী জুয়েল ও জাকির হোসেন ঘটার দিন ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় অবস্থান করেন এমনটি তথ্য নিশ্চিত করেন তারা।
এসআই জাকারিয়া মাসুদ বলেন,এ ধরনের কাজের সাথে আমার কোন সম্পৃত্তা নাই। আপনি ওসি স্যারকে বিষয়টি জানান।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আব্দুর রহিম মোল্যা বলেন,কনস্টবল আনোয়ার প্রপাকান্ডা ছড়াচ্ছে। আর এমন ঘটনার সাথে কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ ছাড়া এসআই জাকারিয়া মাসুদ উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে জুয়া ও মাদক কারবারীদের থানাতে এনে দেনদরবারের একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।

