বঙ্গবন্ধু এভিনিউতেই সীমাবদ্ধ বিএনপির হরতাল
অপরাধ তথ্যচিত্র ডেক্স: ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করে ২ ফেব্রুয়ারি সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিরোধী পক্ষ বিএনপি। বিএনপির ডাকা এই হরতালকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে তা প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছিলো ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। হরতাল প্রতিরোধে ওয়ার্ড ও থানায় থানায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সর্তক অবস্থানে থাকতে বলা হলেও তাদের মাঠে দেয়া যায়নি। রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা এলাকা ঘুরে কোথাও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সর্তক অবস্থা দেখা যায় নি। কোথাও চোখে পড়ে নি ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও। তবে কেন্দ্রীয় কার্যালয় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সর্তক অবস্থানে ছিলো আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এবিষয় জানতে চাইলে ঢাকা মহা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফী বলেন, ‘মহানগর দক্ষিণে অবস্থিত সকল থানা ও ওয়ার্ডে আমাদের নেতাকর্মীরা অবস্থা করছে। আমরা মহানগর আওয়ামী লীগ এখানে (বঙ্গবন্ধু এভিনিউ) অবস্থান করছি। জনগণের জানমাল রক্ষা করাই আমাদের মূল দায়িত্ব।’ হরতাল প্রতিরোদে ওয়ার্ড ও থানা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জন্য কোনও নির্দেশনা ছিলো কিনা? জানতে চাইলে দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘অবশ্যই, গতকাল আমরা টিভি চ্যানেলেকে (টেলিভিশন) সাক্ষাৎকার দিয়েছি। জনগণ যেখানে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সিটি নির্বাচনে ভোট দিয়েছে। কাজেই জনগণের বিজয় হয়েছে। অবশ্যই আমাদের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে জনগণের জানমাল রক্ষা করার জন্য তাদের পাশে থাকবে।’ কয়েকটি থানা ও ওয়ার্ড ঘুরে কোথাও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী চোখে পড়েনি- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক নয়, দীর্ঘ সময় তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমাদের মেয়ের প্রার্থীকে এবং তাদের স্ব-স্ব ক্যান্ডিডেটকে বিজয়ী করেছে। গতকাল ও আগের দিন, এই দুই দিন তাদের অনেকে পরিশ্রম করতে হয়েছে। এই কারণে হয়তো কিছু দেরি হয়েছে। আস্তে আস্তে সব জায়গা থেকে মিছিল আসছে।’ এবিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘হরতাল প্রতিরোধে আমাদের নেতাকর্মীরা সব সময়ই সজাগ রয়েছে। আপনারা জানেন ২০-২৫ দিন ধরে আমাদের নেতাকর্মীদের ২৪ ঘণ্টাই মাঠে ছিলো। তারপরও দেখেন বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সকাল থেকে এখানে উপস্থিত রয়েছে।’ থানা ও ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের অবস্থানের কোনও নির্দেশনা ছিলো কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব জায়গায় নির্দেশ ছিলো। স্টেটমেন্টের মাধ্যমে আমরা সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি। তারাও (বিএনপি) তো হরতাল পরে ডিকলার করেছে। তারপরও আমরা শহরের সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি, যেনো সবাই সজাগ দৃষ্টি রাখে। যেকেনও ধরনের বাধা বিপত্তি কেনো নৈরাজ্য তারা তৈরি করতে চায়, তাহলে আমাদের নেতাকর্মী সজাগ আছে, যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারবে। সবাই অবস্থানে আছে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তারা বেড়িয়ে আসত।’ হরতাল প্রতিরোধে সমাবেশের ডাক দেয় আওয়ামী লীগের আরেক সহযোগী সংগঠন যুবলীগ। সকাল ৯ টায় যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের বঙ্গবন্ধু এভিনিতে থাকতে বলা হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীরা যুবলীগের অফিসের সামনে জড় হলেও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সমাবেশস্থলে এসে উপস্থিত হন দুপুর ১ টায়। সাধারণ সম্পাদকের পরপরই সংগঠনের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশও এসে পৌঁছান যুবলীগের সমাবেশে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের প্রতিটা ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে সজাগ থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সারোয়ার হোসেন বাবু। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ওয়ার্ডে নেতাকর্মী তাদের অবস্থানে রয়েছে। বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী কোথাও কোনো ধরনের অঘটন ঘটালে তাৎক্ষণিক ভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঙ্গে থেকে কাজ করবে যুবলীগের নেতাকর্মীরা। জনগণের জানমালের রক্ষার জন্য।’
এদিকে বিএনপি হরতালে ঢাকায় এখনও কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিএনপিও হরতালের কর্মসূচি নিয়ে তাদের পার্টি অফিসের সামনেই সীমাবদ্ধ ছিলো।

