দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে লঞ্চ চলাচল ৪ অক্টোবর থেকে বন্ধ ৬ কিলোমিটার যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায়

শেখ মোঃ বিল্লাল হোসেন (স্টাফ রিপোর্টার): রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে মঙ্গলবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস ও মাল ভর্তি ট্রাকের ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। দেশের দক্ষিন অঞ্চলের ২১ টি জেলা থেকে ঢাকাগামী নাইন কোচ ১০ ঘন্টা পরেও পারাপার হতে পারে নি। খুলনা থেকে ঢাকা গামী গ্রীন লাইনের একটি পরিবহন ঢাকা মেট্টো-ব-১৪-০৬৮৬ এর চালক মাসুদ জানান, এসি বাসটি সোমবার রাত পনে ২ টায় দৌলতদিয়া ঘাটে পৌছায়। মঙ্গলবার বেলা ১১ টার পরেও বাসটি ফেরি পায় নি। এ ধরনের শতাধিক যাত্রীবাহী বাস রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী কাঁচামাল ভর্তি ট্রাক ড্রাইভার আবুল বাশার বাচ্চু জানান, গোয়ালন্দ মোড়ে পুলিশ তার কাঁচা মাল মিষ্টি কুমরা ভর্তি ট্রাকটি সোমবার রাত ১০ টায় আটকা পড়ে আছে। মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ২টা পর্যন্ত মহাসড়কে খোলা আকাশের নিচে ট্রাকটি পড়ে আছে। এ ধরনের কাঁচা মাল ভর্তি শতাধিক ট্রাক রয়েছে। গত ২ দিন যাবত ৫ শতাধিক বাজে মাল ভর্তি ট্রাক মহাসড়কে লাইন দিয়ে দাড়িয়ে আছে। কবে নাগাদ পার হতে পারবে তা কেউ বলতে পারছে না। দৌলতদিয়া ঘাটে বিআইডাব্লিউটিএ ট্রার্মিনাল চার্জ হঠাৎ করে ৬০ টাকা থেকে ৭৫ টাকায় বৃদ্ধি করেছে। বাস ও ট্রাক ড্রাইভারদের ট্রার্মিনালে কোন প্রকার সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। ট্রাক চালকরা টাকা দিয়ে টয়লেট ব্যবহার করছে। দৌলতদিয়া ট্রাক বুকিং কাউন্টারে ট্রাক ড্রাইভার মোঃ রাকিব জানান, বিআইডাব্লিউটিসির ট্রাক বুকিং কাউন্টারে অতিরিক্ত ১২০ টাকা করে বেশি আদায় করা হচ্ছে। পাটুরিয়া বিআইডাব্লিউটিসির কাউন্টারে টিকিট আনতে গেলে মাছের গাড়ী এবং অন্যান্য গাড়ী প্রতি টিকিটে রেট থাকে হাজার ৬০ টাকা সেখানে আদায় করা হয় ২ হাজার টাকা। একটু বড় গাড়ীর সরকারী রেট ১৪ শত ৬০ টাকা সেখানে আদায় করা হয় ২৫/২৬ শত টাকা। পাটুরিয়া ঘাটে দীর্ঘ যানজট ও যাত্রীদের দূর্ভোগের অন্ত নেই। ১১৭৪ এর চালক ও ঢাকা মেট্রো-ট১৬-৬১৬২ গাড়ীর চালক মোঃ আসিবুর রহমান এবং সাজ্জদ জানান, সরকারী রেটের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা না দিয়ে টিসি কাউন্টার থেকে টিকিট দেবে না বলে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বেশি টাকা দিয়ে তাড়াতাড়ি করে টিকিট দিয়ে দেন বলে জানান। ঘুষের টাকা না দিয়ে টিকিট দেওয়া হচ্ছে না। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে ফেরি ও ঘাট সংকট চলছে চরমে। বিআইডাব্লিউটিএ ঘাট রক্ষনা বেক্ষনের জন্য তেমন কোন কাজ করছে না। দৌলতদিয়ায় ৬টি ঘাটের স্থলে মাত্র ৩টি ঘাট সচল রয়েছে। রাজবাড়ী পানি উন্নয়নবোর্ড ১ ও ২ নং ফেরি ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙ্গন থেকে রাক্ষার জন্য ২৫ হাজার বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে। অথচ সরকারী সংস্থা বিআইডাব্লিউটিএ ঘাট থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করিলেও ঘাট রক্ষার জন্য তাদের তৎপরতা নেই। পাটুরিয়া ভাসমান কারখানার নির্বাহী প্রকৌশলী স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল জানান, দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌ-রুটে ছোট-বড় ৭ টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করছে। রাজবাড়ী পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান (পিপিএম) এর নির্দেশে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি সংকটের কারণে যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেটকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে পদ্মা নদীর পানি হ্রাস পেলেও পুরান ফেরির দূর্বল ইঞ্জিনের কারণে অধিকাংশ ফেরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। অলস অবস্থায় পাটুরিয়া ভাসমান কারখানায় ৮টি ফেরি পড়ে আছে। দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি সংকটের কারণে শতাধিক কাঁচামাল ভর্তি ট্রাকের ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ট্রাক ড্রাইভার আবুল বাশার বাচ্চু জানান। অপর দিকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ রুটে পদ্মা নদীর স্রোত থাকায় গত ৪ দিন যাবত লঞ্চ পারাপার বন্ধ রয়েছে। যাত্রীদের একমাত্র পারাপারের জন্য ফেরিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যাক টয়লেট না থাকায় দুর্ভোগের মাত্র বৃদ্ধি পেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *