নড়াইলের লোহাগড়ায় আলমগীর নামধারী এক যুবকের বিরুদ্ধে চুরি ও চাঁদাবাজি মামলা

লোহাগড়া(নড়াইল)প্রতিনিধি: নড়াইলের লোহাগড়ায় আলমগীর নামধারী এক যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধনী/২০০৩ এর ১০ এবং পেনাল কোটের ৩৮৫/৩৮০ চাঁদা দাবী ও চুরির অপরাধে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলা নং ০৫, তারিখ ০২/০৫/২০১৭ইং। আব্দুল জব্বারের ছেলে আমগীর কবিরের(৪০) বর্তমান ঠিকানা উপজেলার রামপুর গ্রামে। মামলা সূত্রে আরও জানা গেছে, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের খালিদুর রহমান ছোটনের স্ত্রী নাসরিন সুলতানা দিপা গত রবিবার (৩০ এপ্রিল) শারীরিক অসুস্থ থাকার ফলে ডাক্তার দেখানোরর জন্য লোহাগড়া মদিনাপাড়া ননদ ইতি বেগম এর বাড়িতে বিকালে যায়। তখন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলার বাদি দিপা ও তার স্বামী খালিদের মধ্যে সামান্য ঝগড়া ঝাটি হয়। ঐ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া আব্দুল জব্বারের ছেলে আলমগীর কবির (৪০) হাতে ক্যামেরা মোবাইলসহ রিপোর্টার পরিচয় দিয়ে দীপার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে একাধিক ছবি তোলে এবং ভিডিও করে। তখন দিপা ছবি তুলতে ও ভিডিও করতে বাধা দিলে আমগীর নানা বিধ আইন কানুনের ভয়ভীতি দেখায় এবং ২৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দিলে ওইসব ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবার হুমকি দেয় এবং কৌশলে বাদির হাতে থাকা আংটি ছিনাইয়া নিয়ে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে মামলার বাদি দিপা বলেন, “আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার পুত্রবধু ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ পরিবারের সন্তান। এহেন অপকর্মকারী আলমগীরের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী করছি। আশা করি ন্যায় বিচার পাব।” মামলার একমাত্র আসামী আলমগীর কবির পলাতক থাকায় এবং মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে লোহাগড়া থানায় একটি নারী নির্যাতন ও চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম আইনের গতিতে চলবে। এলাকাবাসী সূত্রে আরও জানা গেছে, ওই আলমগীর করিব কয়েক বছর আগে জয়পুর গ্রামে এক মেয়ের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ে এবং গণধোলাইয়ের পর এলাকাবাসী ওই মেয়ের সাথে বিবাহ দিয়ে দেয়। ঘটনার পরের দিন ভোরে নববধুকে ফেলে রেখে লম্পট প্রতারক আলমগীর নদী ঝাপিয়ে পালিয়ে যায়। আসামী আলমগীরকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
