প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে খুলনায় উৎসবের আমেজ পরিচ্ছন্নতা ও বর্ণিল চিত্রাঙ্কনে বদলে যাচ্ছে নগরীর চেহারা, ৫ নভেম্বর সার্কিট হাউস মাঠে জনসভা
সেখ রাসেল, বিভাগীয় প্রধান, খুলনা:
খুলনা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা সফর ও সার্কিট হাউস মাঠে জনসভাকে কেন্দ্র করে বর্ণিল সাজে সেজে উঠছে খুলনা মহানগরী। নগরজুড়ে চলছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সৌন্দর্যবর্ধন ও নানা ধরনের চিত্রাঙ্কন। সড়ক, সড়কদ্বীপ, দেয়াল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নতুন রং-রূপের ছোঁয়ায় যেন ফিরে এসেছে নগরীর হারানো যৌবন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশাপাশি মাঠে নেমেছেন চিত্রশিল্পীরা। তাঁদের তুলির আঁচড়ে দেয়াল ও নগরীর বিভিন্ন স্থানে ফুটে উঠছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের প্রতিকৃতি। কোথাও রাজনৈতিক ইতিহাসের স্মারক, কোথাও বর্ণিল নকশা—সব মিলিয়ে নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
খুলনা নগর ভবনের সামনে এমনই এক চিত্রাঙ্কন কর্মযজ্ঞে ক্যামেরাবন্দি হন চিত্রশিল্পী বাবুল। তিনি নিজের হাতে অঙ্কন করছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতি। তাঁর তুলির নিপুণ আঁচড়ে ফুটে উঠছিল প্রয়াত এই নেত্রীর মুখাবয়ব। পথচারীরাও থমকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছিলেন শিল্পীর এই সৃজনশীল কর্মযজ্ঞ।
নগরীর বিভিন্ন সড়কে ঘুরে দেখা যায়, পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে সংশ্লিষ্টদের ব্যস্ততা। কোথাও সড়ক পরিষ্কার, কোথাও দেয়ালে রং, আবার কোথাও চলছে সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। রিকশাচালক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, পথচারী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকিয়ে রয়েছেন ৫ নভেম্বরের দিকে। নগরীর এমন পরিবর্তন দেখে কেউ কেউ হাস্যরসের ছলে বলছেন, প্রধানমন্ত্রী যদি তিন মাস পরপর খুলনায় আসতেন, তাহলে হয়তো নগরী আর কখনো অপরিচ্ছন্ন থাকত না, ডেঙ্গু মশার উপদ্রবও কমে যেত!
তবে এই হাস্যরসের আড়ালে রয়েছে নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা—খুলনার পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের এই উদ্যোগ যেন শুধু বিশেষ কোনো সফরকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত হয়।
এদিকে সার্কিট হাউস মাঠে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করতে দিন-রাত কাজ করছেন খুলনা সিটি করপোরেশন, বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্য ও জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। জনসভাস্থলসহ আশপাশের এলাকা একাধিকবার পরিদর্শন করে প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জনসভাকে ঘিরে সার্বিক ব্যবস্থাপনা, মাঠ প্রস্তুত ও নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে।
খুলনাবাসীর কাছে ৫ নভেম্বর শুধু প্রধানমন্ত্রীর আগমনের দিন নয়; এটি নগরীর প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাওয়ারও এক উপলক্ষ। নগরীর বর্তমান সাজসজ্জা ও কর্মব্যস্ততা সেই প্রত্যাশারই প্রতিফলন।
এখন অপেক্ষা সেই মাহেন্দ্রক্ষণের—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন এবং সার্কিট হাউস মাঠের জনসভা।

