ফরিদগঞ্জে জমি বিরোধে একের পর এক মামলা, হয়রানির অভিযোগ মফিজুল ইসলামের আদালতে দুই মামলায় পক্ষে রায় পাওয়ার দাবি; নির্মাণকাজ বন্ধের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত চান ভুক্তভোগী
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর দক্ষিণ গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরভাগল রাড়িবাড়ি-সংলগ্ন এলাকায় পৈতৃক জমিতে বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে একাধিক মামলা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষ মো. শাহ আলম ও তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন মো. মফিজুল ইসলাম (মনজিল), পিতা—মৃত লনী মিয়া রাড়ি। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রতিপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানকালে মো. মফিজুল ইসলাম জানান, তিনি তাঁর পৈতৃক সম্পত্তিতে নতুন বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিলে প্রতিপক্ষের লোকজন বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এতে তাঁর বাড়ি নির্মাণকাজ বারবার বন্ধ হয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন।
মফিজুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির নির্মাণকাজের শুরুতে গ্রেড বিমের ঢালাই দিতে গেলে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে ১৪৫ ধারায় মামলা করে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তদন্ত কমিটি জমির কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দাখিল করে। তাঁর দাবি, গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে ওই মামলায় তাঁর পক্ষে রায় হয়।
এরপর পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করলে শাহ আলমের আরেক ভাই খোরশেদ বাদী হয়ে ১৪৫ ধারায় আরেকটি মামলা করেন বলে অভিযোগ করেন মফিজুল ইসলাম। এ মামলাতেও আদালতের নির্দেশে তদন্ত কমিটি কাগজপত্র যাচাই করে প্রতিবেদন দেয়। তাঁর দাবি, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মামলাটি তাঁর পক্ষে নিষ্পত্তি হয় এবং মামলা খারিজ হয়ে যায়।
মফিজুল ইসলামের অভিযোগ, আদালতের ওই সিদ্ধান্তের পর নির্মাণকাজ চলমান থাকা অবস্থায় গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ফরিদগঞ্জ থানায় অভিযোগ করা হয়। এ ছাড়া বিএস খতিয়ান সংশোধন চেয়ে আরেকটি মামলা এবং রাস্তার মালিকানা দাবি করে ১৩৩ ধারায় আরও একটি মামলা করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এসব ঘটনায় তাঁর বাড়ি নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পৈতৃক সম্পত্তির মালিকানার বিষয়ে যা বলছেন মফিজুল
জমির মালিকানার বিষয়ে মফিজুল ইসলাম জানান, তাঁর দাদা মো. খলিলুর রহমান ২৪.২.১৯৪৭সালের ২২৯২ নম্বর বেসাদী ওসাত রায়তি কবুলিয়াতমূলে সাবেক ৮৯ ও ৭২ দাগে মোট সাড়ে ২৫ শতাংশ জমির মালিকানা ও দখল লাভ করেন। পরবর্তীতে ২৯ জুলাই ১৯৪৮ তারিখের ৩৭৭৯ নম্বর বিল-এওয়াজ হেবা দলিলের মাধ্যমে তাঁর দাদি হাজেরা বানুকে দুই দাগে ওই সাড়ে ২৫ শতাংশ জমি দখলসহ হস্তান্তর করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হাজেরা বানুর একমাত্র পুত্র ছিলেন তাঁর বাবা লনী মিয়া এবং তিনি লনী মিয়ার একমাত্র পৌত্র। সেই সূত্রে তিনি ওই সম্পত্তির মালিক বলে দাবি করছেন।
মফিজুল ইসলাম আরও জানান, মোট সাড়ে ২৫ শতাংশ জমির মধ্যে ১০ শতাংশ তাঁর নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। বাকি সাড়ে ১৪ শতাংশ জমি শাহ আলম গং জোরপূর্বক দখলে রেখে ভোগ করছেন বলে তাঁর অভিযোগ। এ নিয়ে বিএস খতিয়ান সংশোধনসংক্রান্ত মামলা চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ মো. শাহ আলম, খোরশেদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মফিজুল ইসলাম বলেন, “আমি আমার পৈতৃক সম্পত্তিতে বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে বারবার মামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছি। আদালতে আমার পক্ষে সিদ্ধান্ত আসার পরও নির্মাণকাজ নির্বিঘ্নে করতে পারছি না। আমি এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার চাই।”
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই এবং আইনানুগ প্রতিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

