ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীরাঙ্গনা টেপরী রাণীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন: এলাকায় শোকের ছায়া
জসীমউদ্দিন ইতি ঠাকুরগাঁও
একাত্তরের রণাঙ্গনের দুঃসাহসী যোদ্ধা এবং বীর নারী টেপরী রাণী আর নেই। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়্যার ইউনিয়নের বলিদ্বারা গ্রামের এই সন্তান গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে পীরগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।
তিনি ওই গ্রামের মধুদাস রায়ের কন্যা এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তাঁর মৃত্যুতে পুরো জেলা জুড়ে এবং বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আজ বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টায় মরহুমার নিজ গ্রাম বলিদ্বারার বাসভবন প্রাঙ্গণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খাদিজা বেগম এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী-এর নেতৃত্বে এক চৌকস পুলিশ দল তাঁকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করেন।
এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্থানীয় শ্মশানে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
শেষ বিদায়ে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এডি আবুল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজুল ইসলামসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাঁর ত্যাগের কথা স্মরণ করে গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
টেপরী রাণী কেবল একজন বীরাঙ্গনাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন যুদ্ধের নিষ্ঠুরতার শিকার এবং একইসঙ্গে সংগ্রামের প্রতীক। একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হওয়ার পর সামাজিক প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে তিনি মাথা উঁচু করে বেঁচে ছিলেন। তাঁর সুধীর রায় (৫৪) নামে এক পুত্রসন্তান রয়েছে, যাকে তিনি পরম মমতায় বড় করেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে রাণীশংকৈল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে। এক শোক বার্তায় তারা জানায়, টেপরী রাণীর মতো বীরদের আত্মত্যাগেই আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। তাঁর চলে যাওয়া জাতির জন্য এক বড় ক্ষতি। এলাকার সাধারণ মানুষও তাঁদের এই ‘বীর মা’কে হারিয়ে শোকাভিভূত।

