ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে আমরা সবাই বাংলাদেশি, সবার অধিকার সমান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
রাজশাহী প্রতিনিধি:
ধর্ম, বর্ণ বা পেশাগত পরিচয় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষের সমান সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কাউকে পেছনে ফেলে নয়, বরং সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও সংহতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় তার সরকার।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর সরকারপ্রধান হিসেবে রাজশাহীতে এটিই তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর।
শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা প্রতিটি মানুষই পরিচয়সূত্রে বাংলাদেশি। আমাদের সংবিধান ও আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “আমরা এই মাটিতে জন্মেছি, এখানেই আমাদের শেষ ঠিকানা। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎও গড়ে উঠবে এই বাংলাদেশে। কাজেই আসুন, বিভেদ ভুলে আমরা সবাই মিলে এমন এক বাংলাদেশ উপহার দিই, যা হবে আমাদের সবার প্রত্যাশার প্রতীক।”
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতি দেশের মানুষের গণরায়ের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি আজ দেশ পরিচালনার দায়িত্বে। একটি দায়িত্বশীল সরকারের প্রধান হিসেবে আমি দেশের প্রতিটি নাগরিককে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের যাত্রায় এগিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।
অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পক্ষ থেকে পূজা উদযাপন ফান্ড গঠন ও নতুন মন্দির নির্মাণের দাবি পেশ করা হয়। একই সঙ্গে চলতি শারদীয় দুর্গোৎসবে সরকারের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বর্ধিত অনুদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সন্তোষ প্রকাশ করেন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।
এর আগে, বিকেলে রাজশাহী শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ধর্মসভা মন্দিরে যান। পরিদর্শন ও মতবিনিময় শেষে তিনি পরবর্তী কর্মসূচিতে অংশ নিতে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রাজশাহী ত্যাগ করেন।

