নবম পে-স্কেলে বড় সুখবর ২০তম গ্রেডে বেতন ৮,২৫০ থেকে ২০ হাজার, প্রথম গ্রেডে ১ লাখ ৫৬ হাজার

সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক:
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন বেতন কাঠামোয় আগের মতোই থাকছে ২০টি গ্রেড। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন কাঠামোয় নিম্ন আয়ের কর্মচারীরাই তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন বাড়ছে ১৪২ শতাংশ, আর সর্বোচ্চ গ্রেডে বাড়ছে ১০০ শতাংশ।

তিন ধাপে বাস্তবায়ন: সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল একবারে বাস্তবায়ন করা হবে না। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হবে। অগ্রাধিকার পাবেন ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা। বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

সব গ্রেডে মোবাইল ভাতা : নতুন পে-স্কেলের অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো মোবাইল ভাতার আওতা সম্প্রসারণ। এখন থেকে ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মোবাইল ভাতা পাবেন।

প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য নতুন ভাতা : প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পেনশনেও বড় বৃদ্ধি : পেনশনভোগীদের জন্যও এসেছে সুখবর। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী— ৯ হাজার টাকা বা কম পেনশন: বৃদ্ধি ১০০ শতাংশ। ৯,০০১ থেকে ২০ হাজার টাকা: বৃদ্ধি ৭৫ শতাংশ। ২০,০০১ থেকে ৩০ হাজার টাকা: বৃদ্ধি ৬৫ শতাং। ৩০,০০১ থেকে ৪০ হাজার টাকা: বৃদ্ধি ৬০ শতাংশ। ৪০ হাজার টাকার বেশি: বৃদ্ধি ৫৫ শতাংশ। উপকৃত হবেন প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ।

নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ পেনশনভোগীসহ অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।

এক নজরে নবম পে-স্কেল : সর্বনিম্ন বেতন: ২০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ বেতন: ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। সর্বনিম্ন গ্রেডে বৃদ্ধি: ১৪২ শতাংশ।
সর্বোচ্চ গ্রেডে বৃদ্ধি: ১০০ শতাংশ। গ্রেড সংখ্যা: ২০টি। প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা: মাসে ৩ হাজার টাকা। মোবাইল ভাতা: সব গ্রেডে। বাস্তবায়ন: ধাপে ধাপে

১১ বছর পর নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাই নতুন পে-স্কেলের অন্যতম লক্ষ্য।

দেশের জিনিসপত্রের মূল্য হিসেবে এটা উচিত ছিল, এরপরও কি আরও বৃদ্ধি করতে আন্দোলন করবে? কিন্তু জন সাধারণের একটাই জিজ্ঞাসা সরকারি কর্মচারী কর্মকর্তা কি তাদের নৈতিকতা উন্নত করবে না সেই পূর্বের মানসিকতা নিয়েই থাকবে। যেহেতু বেতন কাঠামো বেড়েছে, সেহেতু উচিত মানসিকতার উন্নয়ন ঘটিয়ে দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *