সরকারের নতুন গেজেট, ৬৪ জেলার তদারকিতে পুনর্বণ্টিত দায়িত্বে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ

সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক:
দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে জেলাভিত্তিক বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।

একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রমের সমন্বয় এবং মাঠ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বও পালন করবেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য নির্ধারিত জেলা বা জেলাসমূহের সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটেও এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে।

লালমনিরহাটসহ তিন জেলার দায়িত্বে ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন : নতুন দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড় জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের এ তিন সীমান্তবর্তী জেলার আইনশৃঙ্খলা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির তদারকিতে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন—ইকবাল হাসান মাহমুদ (রাজশাহী ও নাটোর), আব্দুল আউয়াল মিন্টু (লক্ষ্মীপুর), নিতাই রায় চৌধুরী (চুয়াডাঙ্গা), খন্দকার আবদুল মুক্তাদির (হবিগঞ্জ), আরিফুল হক চৌধুরী (মৌলভীবাজার), মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি (চট্টগ্রাম), এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত (শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা), আসাদুল হাবিব দুলু (ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর), মো. আসাদুজ্জামান (খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট) এবং জাকারিয়া তাহের (ফেনী ও নোয়াখালী)।

দায়িত্ব পাওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন—সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল (মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ), সাচিং প্রু (কক্সবাজার), মো. শরীফুল আলম (টাঙ্গাইল ও নরসিংদী), শামা ওবায়েদ ইসলাম (মাদারীপুর ও শরীয়তপুর), অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ), আব্দুল বারী (বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ), সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (ঢাকা), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি), হাবিবুর রশিদ (গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ) এবং মো. রাজীব আহসান (বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর)।

এ ছাড়া মীর শাহে আলমকে রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম; ফারজানা শারমিনকে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা; শেখ ফরিদুল ইসলামকে যশোর, মাগুরা ও নড়াইল; দায়িত্বপ্রাপ্ত তালিকায় থাকা একজনকে জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ; আহমেদ সোহেল মঞ্জুরকে বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি; মোহাম্মদ শামীম কায়সারকে জয়পুরহাট ও নওগাঁ; মো. জি কে গউছকে সিলেট ও সুনামগঞ্জ; মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজানকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা : প্রজ্ঞাপনে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের কাজের ক্ষেত্রও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগে পরামর্শ প্রদান;
চোরাচালান প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রম সমন্বয়;
গুরুতর অপরাধ দমন এবং জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সমুন্নত রাখতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা;
দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে পরামর্শ;
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা ও তদারকি;
দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিসংক্রান্ত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ;
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি;
চলমান সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সমন্বয়।

সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের যোগাযোগ ও সমন্বয় আরও কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প, জনসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কার্যক্রমে নিয়মিত তদারকির সুযোগ বাড়বে।

লালমনিরহাটের জন্য নতুন প্রত্যাশা: লালমনিরহাটসহ নীলফামারী ও পঞ্চগড়ের দায়িত্ব একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর অধীনে দেওয়ায় উত্তরাঞ্চলের এই জেলাগুলোর সীমান্ত নিরাপত্তা, চোরাচালান ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সরকারি সেবার মান এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারি বাড়বে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে।

সরকারের নতুন দায়িত্ব বণ্টনের মূল লক্ষ্য হলো জেলা পর্যায়ে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদার করার পাশাপাশি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের বাস্তব অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা।

প্রজ্ঞাপনটি ২৭ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেশের সব ৬৪ জেলার জন্য দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে মাঠ প্রশাসনের সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *