বিষ্ণুপুরে গফুর ডেইরি ফার্মের বর্জ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ৪ শতাধিক পরিবার পরিবেশ দূষণ ও দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

মোঃ জাবেদ হোসেন:চাঁদপুর সদর উপজেলার ১নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড পশ্চিম বিষ্ণুপুর এলাকায় একটি ডেইরি খামারের বর্জ্যের কারণে স্থানীয় প্রায় চার শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খামারের গোবর ও বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ না করায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসহনীয় দুর্গন্ধ।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পশ্চিম বিষ্ণুপুরের বান্দু হাজড়া বাড়ি ও মতিন খানের বাড়ি হয়ে লালপুর মেঘনা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল দীর্ঘদিন ধরে ডেইরি খামারের গোবর ও বর্জ্যে ভরাট হয়ে আছে। একসময় এ খাল দিয়ে নিয়মিত জোয়ার-ভাটার পানি প্রবাহিত হলেও বর্তমানে বর্জ্য জমে পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে খালের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মশা-মাছিসহ বিভিন্ন রোগবাহী পোকামাকড়ের প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আবুল খায়ের হাজড়ার ছেলে গফুর হাজড়া প্রায় তিন বছর ধরে ‘গফুর ডেইরি ফার্ম’ নামে একটি খামার পরিচালনা করে আসছেন। খামারটিতে বর্তমানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি গরু রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিন উৎপন্ন হওয়া বিপুল পরিমাণ গোবর ও তরল বর্জ্য সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অপসারণ করা হয় না। ফলে এসব বর্জ্য আশপাশের খাল, নিম্নাঞ্চল ও বসতবাড়ির পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে খামারের বর্জ্য আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। দুর্গন্ধের কারণে অনেক সময় ঘরের দরজা-জানালা খুলে রাখা যায় না। শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানান এলাকাবাসী।
এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে সমস্যাটি দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বিভিন্ন রোগব্যাধির ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. তোফাজ্জল হোসেন খান বলেন, “খামারের বর্জ্যের দুর্গন্ধে এলাকায় বসবাস করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর দুর্গন্ধ আরও বেড়ে যায়। আমরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই।”
মনোয়ারা বেগম বলেন, “বাড়ির বাইরে বের হওয়া যায় না। মশা-মাছির উপদ্রব এত বেশি যে শিশুদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”
সিরাজ হাজড়া, হাজেরা বেগম ও জোসনা বেগমসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, “পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না হলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
এলাকাবাসী বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং খামারের বর্জ্য অপসারণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে খামার মালিক গফুর হাজড়ার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এতে করে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে পশ্চিম বিষ্ণুপুর এলাকার শত শত পরিবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *