ফুটবলার ফারিয়ার স্বপ্নে আঘাত, ক্রীড়া সংগঠক বিপ্লবের বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-
খেলাধুলার মাধ্যমে বড় হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল ১২ বছরের কিশোরী ফুটবলার ফারিয়া। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ প্রতিযোগিতায় উপজেলা বালিকা ফুটবল দলের হয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগও পেয়েছিল সে। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার অভিযোগ উঠেছে হরিণাকুণ্ডু ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক বিপ্লবের বিরুদ্ধে। কিশোরী খেলোয়াড়কে কুপ্রস্তাব ও অশালীন প্রশ্ন করার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ফারিয়া উপজেলার ফোলসি গ্রামের
জামিরুল ইসলাম (চাতক) এর মেয়ে। সে স্থানীয় প্রিয়নাথ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং উপজেলা বালিকা ফুটবল দলের একজন খেলোয়াড়। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দলের সঙ্গে ঝিনাইদহে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত বিপ্লব তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঝিনাইদহে অবস্থানের সময় বিপ্লব ফারিয়াকে ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর প্রশ্ন করেন। তিনি জানতে চান,তোমার মেনস হয়েছে কি?এবং তুমি শরীর টাইট করার জন্য ব্রা পরেছো কি না?—এমন প্রশ্নে কিশোরীটি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং মানসিকভাবে ভেঙে যায় বলে জানিয়েছে পরিবার।
অভিযুক্ত বিপ্লবের পিতার নাম শহিদুল ইসলাম। তার বাড়ি হরিণাকুণ্ডু হল বাজার-ফোলসি সড়ক এলাকায়। স্থানীয়ভাবে তিনি হরিণাকুণ্ডু খেলাঘর নামের একটি ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত। জানা গেছে, তিনি উপজেলা বিএনপির নেতা এবং ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও মেয়ের খেলার কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে, প্রিয়নাথ স্কুল অ্যান্ড কলেজের কোনো শিক্ষক না হয়েও বিপ্লব কীভাবে ওই প্রতিষ্ঠানের ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব পেলেন—তা নিয়েও এলাকায় শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্রীড়া কার্যক্রমে যুক্ত হন এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রিয়নাথ স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাচীর ঘেঁষেই বিপ্লবের খেলাঘর নামে একটি বড় স্পোর্টস সামগ্রীর দোকান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটিয়ে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে ফারিয়া সাংবাদিকদের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলে,
আমি খেলাধুলা করে বড় হতে চেয়েছিলাম। অনেক কষ্ট করে খেলি। আমার অনেক পুরস্কার ও জেলা প্রশাসকের দেওয়া সনদও আছে। কিন্তু এখন আমি খুব ভয় পাচ্ছি।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ঘটনার পর তারা থানায় অভিযোগ করতে চাইলে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি মামলা না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। পরিবার বলছে, একজন কিশোরী খেলোয়াড়ের সঙ্গে এমন আচরণের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবকও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত বিপ্লবের বিরুদ্ধে এর আগেও নারী খেলোয়াড়দের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। তবে ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলেননি।
তবে অভিযুক্ত বিপ্লব সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোচ হিসেবে খেলোয়াড়দের নিয়ে ঝিনাইদহে গিয়েছিলেন। তার দাবি, আমি শুধু কিছু সাধারণ প্রশ্ন করেছি, খারাপ উদ্দেশ্যে কিছু বলিনি।
এবিষয়ে হরিনাকুন্ডু প্রিয় নাথ স্কুল এন্ড কলেজ এর প্রধান শিক্ষক হাসানুজ্জামান বাদল বিষয়টি স্কুলের বাইরের ঘটনা বলে দাবি করেন এবং কোন মন্তব্য করতেও চাননি তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে হরিণাকুণ্ডু জুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সচেতন মহলের দাবি, খেলাধুলার পরিবেশ নিরাপদ না থাকলে ভবিষ্যতে কিশোরী মেয়েরা মাঠমুখী হতে নিরুৎসাহিত হবে। তাই দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *