খুলনার বটিয়াঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইপিআই কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগে মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে কৈফিয়ত তলব

সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা:
বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই কার্যক্রমে অনিয়ম তথ্য গোপন ও সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) জ্যোর্তিময়ীর বিরুদ্ধে কৈফিয়ত তলব করেছে খুলনা সিভিল সার্জন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি দল বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই স্টোর পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় স্টক রেজিস্টার সংরক্ষণে একাধিক অসঙ্গতি ও অনিয়ম ধরা পড়ে।

অভিযোগে বলা হয়, প্রায় দুই মাস ধরে রুটিন ইপিআই স্টক রেজিস্টার হালনাগাদ করা হয়নি। এছাড়া স্টক রেজিস্টারে উল্লেখিত তথ্যের সঙ্গে ব্যবহৃত ভায়ালের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনে ব্যবহৃত ভায়ালের হিসাবেও বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে।

এছাড়াও কোভিড-১৯ এর টাকা ভুয়া ভাউচার করে আত্মসাৎ করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে জ্যোর্তিময়ীর বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়, হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনে অভিযোগ অনুযায়ী কাগজপত্র ১৩ হাজার ৫০০ জনকে টিকা প্রদানের তথ্য দেখানো হলেও ভায়ালের হিসেবের সঙ্গে তার মিল পাওয়া যায়নি। কাগজপত্র অনুযায়ী যেখানে প্রায় এক হাজার ৪০০ ভায়াল ব্যবহারের কথা, সেখানে সরেজমিনে দেখা যায় মাত্র ৯০০ ভায়াল ব্যবহার করা হয়েছে এবং আরও ৫৮৬ ভায়াল স্টোরে মজুত রয়েছে। এতে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে টিকা প্রদানের তথ্য মিথ্যা বলে প্রতীয়মান হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় সরকারি অর্থ অপচয় ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে রবিবার থেকে তিন কর্ম দিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সরকারি অর্থের অপচয় ও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে সিভিল সার্জনের দপ্তর মনে করছে। যা সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ১৯৮৫ (সংশোধিত ২০১৮) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

খুলনার সিভিল সার্জন ডাঃ মোছাঃ মাহফুজা খাতুন স্বাক্ষরিত কৈফিয়ত তলব নোটিশে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে নোটিশের অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বটিয়াঘাটা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়কসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ ওয়াহিদুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *