সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের হাতে খাল খনন কর্মসূচি—বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে উন্নয়নের ধারা এগিয়ে যাচ্ছে

এস.এম.সাইফুল ইসলাম কবির
বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন কিছু রাষ্ট্রনায়ক আছেন, যাদের কর্মসূচি সময় পেরিয়েও মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়। তাঁদের মধ্যে অন্যতম সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, ছিলেন কর্মমুখী রাষ্ট্রগঠনের প্রতীক। তাঁর শাসনামলে গ্রামবাংলার উন্নয়ন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ এবং জনসম্পৃক্ত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যে নতুন ধারা সৃষ্টি হয়েছিল, তার অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ ছিল খাল খনন কর্মসূচি।
আজ সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশ নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন, অবকাঠামো, কৃষি, কর্মসংস্থান, সুশাসন এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম নতুন গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। অতীতের উন্নয়ন দর্শন ও বর্তমানের আধুনিক পরিকল্পনার সমন্বয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে সম্ভাবনার পথে।

জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন দর্শন: জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রগঠন
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন, শুধু শহরকেন্দ্রিক উন্নয়ন দিয়ে একটি দেশ এগোতে পারে না। দেশের প্রাণ হচ্ছে গ্রাম, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ জনগণ। তাই তিনি গ্রামমুখী উন্নয়ন নীতি গ্রহণ করেছিলেন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল খনন, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, রাস্তা নির্মাণ, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় উদ্যোগকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে তিনি অর্থনীতির ভিত শক্তিশালী করার চেষ্টা করেন।
খাল খনন কর্মসূচি ছিল তাঁর অন্যতম দূরদর্শী পদক্ষেপ। তখন দেশের বহু খাল, বিল ও জলপথ ভরাট হয়ে গিয়েছিল। বর্ষায় জলাবদ্ধতা, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট, কৃষিতে সেচ সমস্যা—এসব ছিল সাধারণ ঘটনা। খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ সচল করা, কৃষিজমিতে সেচ নিশ্চিত করা এবং জলাবদ্ধতা দূর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়।
এই কর্মসূচি শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন ছিল না, এটি ছিল কর্মসংস্থান সৃষ্টিরও বড় উদ্যোগ। হাজার হাজার মানুষ এতে কাজের সুযোগ পেয়েছিল। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আসে।
খাল খননের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
খাল খনন কর্মসূচির ফলে দেশের বহু অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বেড়ে যায়। আগে যেখানে একটি ফসল হতো, সেখানে দুই থেকে তিনটি ফসল ফলানো সম্ভব হয়। পানি সংরক্ষণ ও সেচব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় কৃষকের উৎপাদন খরচ কমে এবং আয় বাড়ে।
এছাড়া মাছ চাষেরও প্রসার ঘটে। খাল ও জলাশয় পুনরুজ্জীবিত হওয়ায় স্থানীয়ভাবে মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি পায়। নৌপথ সচল হওয়ায় যোগাযোগ সহজ হয়। অনেক অঞ্চলে মানুষ নৌকায় পণ্য পরিবহন করতে পারত, যা তখনকার সময়ে বড় সুবিধা ছিল।
পরিবেশগত দিক থেকেও এ কর্মসূচি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। পানি প্রবাহ সচল থাকায় মাটি উর্বর থাকে, জলাবদ্ধতা কমে, স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষা পায়।
শহীদ জিয়ার নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য
শহীদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বাস্তববাদিতা। তিনি মাঠপর্যায়ের সমস্যা বুঝতেন এবং সমাধানমুখী সিদ্ধান্ত নিতেন। দেশের অর্থনীতি তখন নানা চ্যালেঞ্জে থাকলেও তিনি আত্মনির্ভরতার বার্তা দিয়েছিলেন। কৃষক, শ্রমিক, যুবক—সব শ্রেণির মানুষকে উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তিনি মনে করতেন, রাষ্ট্রের উন্নয়ন মানে জনগণের উন্নয়ন। তাই তাঁর সময়ের বহু কর্মসূচি সরাসরি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের নেতৃত্ব
সময়ের পরিবর্তনে বাংলাদেশ এখন নতুন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্বায়ন, প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক বিনিয়োগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—সব ক্ষেত্রেই নতুন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার উন্নয়ন ও সংস্কারের ধারাকে এগিয়ে নিচ্ছে। �
Al Jazeera +1
বর্তমান সরকার কৃষি আধুনিকীকরণ, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত শক্তিশালীকরণে কাজ করছে। গ্রাম ও শহরের বৈষম্য কমাতে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কৃষকের জন্য বিশেষ সহায়তা, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন এবং সরাসরি সেবাপ্রদান কর্মসূচি চালু হয়েছে। �
Reuters
অতীতের খাল খনন থেকে বর্তমানের টেকসই উন্নয়ন
আজকের বাংলাদেশে খাল খননের গুরুত্ব আবারও নতুনভাবে সামনে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি, বন্যা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা—এসব সমস্যা মোকাবিলায় খাল, নদী ও জলপথ পুনরুদ্ধার অত্যন্ত জরুরি। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে শহীদ জিয়ার খাল খনন দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক।
বর্তমান সরকারও জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, নদী খনন, খাল পুনরুদ্ধার ও পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাল সংস্কার, ড্রেনেজ উন্নয়ন এবং কৃষি সহায়ক প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।
এতে বোঝা যায়, অতীতের সঠিক উদ্যোগ কখনও পুরোনো হয় না—বরং সময়ের সঙ্গে আরও মূল্যবান হয়ে ওঠে।
জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতি: দুই প্রজন্মের সেতুবন্ধন
শহীদ জিয়াউর রহমান যে রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, তার কেন্দ্রে ছিল জনগণ। আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বেও জনগণমুখী প্রশাসন, কর্মসংস্থান, সুশাসন ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার অঙ্গীকার দেখা যাচ্ছে।
নতুন প্রজন্ম চায় সুযোগ, কর্মসংস্থান, স্বচ্ছতা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি শিক্ষা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও বর্তমান সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা
বাংলাদেশের অর্থনীতির শক্ত ভিত এখনও কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি। শহীদ জিয়ার সময় কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন যে গুরুত্ব পেয়েছিল, বর্তমান সময়েও তা অপরিহার্য। আধুনিক যন্ত্রপাতি, উন্নত বীজ, সহজ ঋণ, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো হলে কৃষক আরও লাভবান হবে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে কৃষককে সরাসরি সহায়তা, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা এবং বাজার সংযোগ বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে। �
Reuters
অবকাঠামো উন্নয়ন ও জাতীয় অগ্রগতি
দেশ এগিয়ে নিতে শুধু কৃষি নয়, প্রয়োজন সড়ক, রেল, বন্দর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও শিল্পায়ন। বর্তমান সরকার এসব খাতে কাজ করছে। নতুন বিনিয়োগ, শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থনীতিকে গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। �
Reuters +1
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা
উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। জনগণ চায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারকে সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনই হবে সবচেয়ে বড় সাফল্য।
ইতিহাস থেকে শিক্ষা
বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক উত্থান-পতন এসেছে। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে—যে নেতা মানুষের পাশে দাঁড়ান, উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন, মানুষ তাঁকেই মনে রাখে।
শহীদ জিয়াউর রহমান সেই কারণেই স্মরণীয়। তাঁর খাল খনন কর্মসূচি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প ছিল না, ছিল মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার উদ্যোগ। আজকের দিনে সেই কর্মদর্শন নতুন আকারে ফিরে আসতে পারে—টেকসই উন্নয়ন, জলব্যবস্থাপনা, কৃষি আধুনিকীকরণ ও স্থানীয় অর্থনীতির শক্তিতে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের হাতে শুরু হওয়া জনমুখী উন্নয়নের যে ধারা, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। খাল খনন কর্মসূচি ছিল সেই ধারার উজ্জ্বল প্রতীক। আজ বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুন যুগের উন্নয়ন অভিযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে। অতীতের অভিজ্ঞতা, বর্তমানের পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন—এই তিনের সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে সমৃদ্ধ, আধুনিক ও মানবিক বাংলাদেশ।
এস.এম.সাইফুল ইসলাম কবির চেয়ারম্যান জাতীয় মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটি। 📞 ০১৯১১-২১১৯৬৫ / ০১৭১১-৩৭৭৪৫০তারিখ-২৯.০৪.২০২৬।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *