আওয়ামীলীগ বিদায় নেওয়ার পরও আইন হাতে তুলে নিয়ে প্রক্যাশ্যে শিবিরকে হত্যার হুমকি, ছাত্রদলের
সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক:
ফ্যাসিস্ট সরকারের সকল এমপি ও উর্দ্বতন নেতা কর্মীরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। বর্তমানে বিএনপি সরকার দলে অধিষ্ট হলেও লক্ষ্য করা যায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে একটি রাজনৈতিক ছাত্র সংঘটন শিবিরকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিলেও সরকার পক্ষ থেকে নেই কোনো পদক্ষেপ, নেই কোন প্রতিবাদ। প্রতিটা পাড়া মহল্লায় এখন একটি আলোচনা সমালোচনা আমরা একটি ফ্যাসিস্ট কে তাড়িয়ে তার চাইতেও বড় ফ্যাসিস্টকে বরণ করে নেয়নিতো। মব সৃষ্টি করছে, ছাত্রদল অথচ দোষ মব সন্ত্রাসের দায় চাপাচ্ছে শিবিরের উপর। যারা শিবির তারা গুপ্ত সুপ্ত বা প্রকাশ্য বিষয়কে সামনে এনে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল শিবির ও জামায়ত কে ধ্বংস চেষ্টায় লেলিহান।
‘জিয়া পরিবারকে নিয়ে অশ্লীল স্ট্যাটাস দেওয়া হলে আইন হাতে তুলে গুপ্ত শিবিরকে হত্যা করবো’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ওমর ফারুক। চট্টগ্রামে দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল শুক্রবার বিক্ষোভ সমাবেশ করে ইবি ছাত্রদল। সেখানে বক্তব্যের সময় এ মন্তব্য করেন ওমর ফারুক।
তিনি বলেন, ‘গুপ্ত শিবিরকে বলতে চাই, আপনারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে এসে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করুন। আমরা আপনাদের সহযোগিতায় আছি। কিন্তু সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে, নারীদের নিয়ে, তারেক রহমানের পরিবারকে নিয়ে যদি নোংরামি করেন, তাহলে অস্তিত্ব থাকবে না। জিয়া পরিবারকে নিয়ে কোনো অশ্লীল স্ট্যাটাস দেওয়া হলে, হয় আমরা মারবো নয় মরবো। হয় আমরা ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলবো, নয়তো আইন হাতে তুলে নিয়ে গুপ্ত শিবির সন্ত্রাসীদের হত্যা করবো।’
ওমর ফারুকের এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে ক্ষমা চেয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন।তাতে ফারুক লিখেছেন, ‘বক্তব্যে জিয়া পরিবারকে নিয়ে নোংরামি করলে তাদের প্রতিহত করবো বলতে গিয়ে হত্যা করবো শব্দটি অসাবধানতাবশত উচ্চারণ করেছি। এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করিছ।’
এদিকে ছাত্রদল নেতার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় বিবৃতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ইসলামী ছাত্রশিবির। বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা ‘শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং এই হুমকি’ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ওমর ফারুককে দ্রুত গ্রেপ্তারেরর জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে তারা বলেন, ইবি ছাত্রদল নেতা প্রকাশ্য সমাবেশে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের হত্যার যে হুমকি দিয়েছেন, তা মূলত ফ্যাসিবাদেরই এক নতুন ও বীভৎস সংস্করণ। এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত নয়, বরং একটি সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ। এই হত্যার হুমকি প্রদানকারী ও সন্ত্রাসীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার সম্পূর্ণ দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারকেই বহন করতে হবে।
এখনই এগুলো থামানো না গেলে এই দেশ এবং বিএনপির ভবিষ্যত কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা অজানা ও ভয়ংকর।

