অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা: ইজারাদারের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
আদমদীঘি প্রতিনিধি:
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম বাজারে সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে ইজারাদারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। নির্ধারিত টোল রেটের চাট লিষ্ট টাঙিয়ে দেওয়া হয়নি কৌশলে সরকার নির্ধারিত মূল্যর চেয়ে বেশি টাকা আদায় করায় বাজারের ব্যবসায়ীরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত হারের বাইরে গিয়ে ইজারাদার ও তার লোকজন জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। নিয়মিত ট্রেড লাইসেন্স ও অন্যান্য ফি পরিশোধ করার পরও পণ্য বিক্রির সময় বাড়তি অর্থ দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স এবং নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে তালিকা প্রকাশ না করাই নির্ধারিত রেটের চেয়ে অনেক বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরদের পক্ষে আনছার জানান, অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইজারাদারের লোকজনের হাতে বিভিন্ন লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। এতে এক দিকে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, অন্য দিকে বাজারে স্বাভাবিক ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরকারি অনুমোদিত টোল চার্ট (ছবিতে প্রদর্শিত) অনুযায়ী-খাট প্রতি ৩০ টাকা, আলনা বা চেয়ার প্রতি ৫ টাকা এবং সোফা সেট প্রতি ৩০ টাকা টোল নির্ধারিত।
কিন্তু ব্যবসায়ীদের দাবি, এই তালিকার তোয়াক্কা না করে ক্ষেত্র বিশেষে ৫ থেকে ২০ গুণ বেশি খাজনা আদায় করা হচ্ছে।
এই অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের প্রতিবাদে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আদমদীঘি উপজেলা প্রশাসনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তারা ইজারাদারের লোকজনের অসদাচরণ এবং বে-আইনি ভাবে অর্থ আদায়ের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে ইজারাদার ফেরদৌসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা বেগম জানান, ব্যবসায়ীদের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সরকারি টোল চার্টের বাইরে এক টাকাও বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

