হরিরামপুরে ইছামতি নদী ও বন্ধ মোল্লাবাড়ির খাল সচলের দাবিতে মানববন্ধন ও মতো বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
প্রিয়া আক্তার (মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি)
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে কৃষি পরিবেশ ও জলবায়ুর ন্যায়তায় ইছামতি নদী ও নদীর সাথে সংযোগ বন্ধ খাল সচলের দাবিতে মানববন্ধন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১২ই মার্চ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে হরিরামপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পিয়য়াজচর গ্রামের, পিয়াজচর ঈদগাহ মাঠে ইছামতি নদীর পারে। পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠন বারসিকের আয়োজনে এ মানব বন্ধন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জানা যায়, জানা যায়, হরিরামপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বাহিরচর বাজার হইতে যাত্রাপুর কান্ঠাপাড়া, সট্টি, সুলতানপুর, হয়ে ইছামতি নদীর একটি শাখা সদর উপজেলার বালিরটেক কালিগংগা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।কিন্তু ২০০১ সালেএই উপজেলায় পদ্মা ভাঙ্গন রোধকল্প বাহিরচর বাজার এলাকায় ইছামতির প্রবেশপথে স্থায়ীভাবে বাঁধ দিয়ে নদীর পানির প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর আন্ধার মানিক বাজার হতে বাহিরচর দিয় স্থায়ীভাবে বাঁধ দেওয়া হয়।
এছাড়া ওর লেছড়াগঞ্জ বাজার, পূর্ব খলিলপুর সট্টি এলাকায় বাঁধ নির্মাণের মধ্য দিয়ে নদীর পানি চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে বর্ষা মৌসুমে পানি আসলেও তা পরবর্তীতে জলাশয়ে পরিণত হয়। পানি পচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়ায় নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা বছরের পর বছর ভোগান্তি পোহাচ্ছ।পানির ব্যবহারের অনুপযোগীসহজ জলবদ্ধতায় জমে থাকা কচুরিপানা পড়ছে মশার জন্ম হয়। মশার কামড়ে এলাকাবাসীরা নানার রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ অঞ্চলের সেচের পানির শূন্যতায় হাজার হাজার কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। এছাড়া এ অঞ্চলে প্রাচীন দীর্ঘতম মোল্লা বাড়ির খালেও স্থায়ীভাবে করে দেওয়া হয়েছে প্রবেশ পথ। ইছামতি নদীর স্বার্থে সংযোগে খালটির মুখ বন্ধ থাকায় বিভিন্ন এলাকায় বিল বাওড়ে পানি প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে কৃষক ও জেলেরা ব্যাপক মাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানববন্ধনে এলাকাবাসী ইছামতি নদীসহ মোল্লা বাড়ির খাল সচলের জোর দাবি জানায়।মানব বন্ধনও মতবিনিময় সভার রামকৃষ্ণপুর ইউপির সাবেক সদস্য আইনাল হোসেন বলেন বর্তমানে দড়িকান্দি ইছামতি নদীর বালি পড়ে উঁচু হয়ে যাওয়া শুষ্ক মৌসুমেপানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। লেছড়াগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বাঁধের কারণে পানি প্রবাহ বন্ধ আছে। নদীতে জায়গা জায়গা বাদ থাকার কারণে আজ নদী মৃত। পরিবেশ ও প্রাণ প্রকৃতি ধ্বংস হচ্ছে। পানি প্রবাহ না থাকায় আমাদের কৃষিকাজ ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে। আমাদের ইছামতি নদীটি সচল করলে আমরা কৃষিকাজ করতে পারব।
ইছামতি নদীর তীরবর্তী বাসিন্দা বেগম জানান, এক সময় ইছামতি নদীর পানি ছিল সংসারের কাজ এবং কৃষিকাজে নির্ভরযোগ্য স্থান। মৎস্যজীবী রাম মৎস্য আহরণ করে তাদের সংসার চালাত এই পথের অনেক বড় বড় লঞ্চ পালতোলানৌকা চলতো,ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ব্যবসার কাজে ও নৌপথে চলাচল করতো। তাই আমাদের দাবি অতি তাড়াতাড়ি এই নদীটি সচল করা হোক। বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার সত্য রঞ্জন সাহা বলেন এক সময় এই ইছামতি নদীটিতে অনেক স্রোত ছিল। এই এলাকায় নদী কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক গড়ে উঠেছিল। এই নদীতে ট্রলারেরমাধ্যমে মানুষ যাতায়াত করত। নদীর পাড়ে দিয়ে মানুষ কৃষিকাজসহ নাওয়া ধোয়া বিভিন্ন কাজ করতো। ইছামতি নদীতে বিভিন্ন ধরনের মাছ থাকতো জেলেরা এই মাস আহরণ করে তাদের সংসার চালাত। হরিরামপুর দড়িকান্দি পদ্মা নদীর সংযোগস্থলে স্থায়ীভাবে বাঁধ দেওয়ার কারণে নদীটি মৃত নদীতে পরিণত হয়েছে। নদীটি মরে যাওয়ার কারণে কৃষকদের জ্বালানি খরচ করে মাটির নিচ থেকে টিউবলের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করতে খরচ বেশি হয়। এ কারণে নদীটি দ্রুত সচল করলে কৃষকদের খরচ কমবে কমবে। মানববন্ধন ও মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায়, প্রোগ্রাম কো-অডিনেটরশিমুল কুমার বিশ্বাস, হরিরামপুর উপজেলার প্রোগ্রাম অফিসার মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন, যুব টিমের সভাপতি মোহাম্মদ আলী সহ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গগণ।

