সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের দাবি—তরু মিয়ার মৃত্যু স্ট্রোকজনিত তবুও জামায়াত-শিবিরের ৩ জন গ্রেফতার, লাশ নিয়ে বিএনপির বিক্ষোভ
সাইফুল ইসলাম, ঝিনাইদহ সংবাদদাতা:
ঝিনাইদহে সংঘর্ষে আহত কৃষকদল নেতা তরু মিয়ার মৃত্যু স্ট্রোকজনিত কারণে হয়েছে বলে জোর দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী। শনিবার দুপুরে জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার জেরে জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের তিনজন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও পৌর মেয়র পদপ্রার্থী আব্দুল আলীম, সদর উপজেলা আমীর ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ড. হাবিবুর রহমান, গান্না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ড. মনোয়ার হোসেন এবং শহর ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি শেখ আলামিন।
জামায়াত নেতারা বলেন, শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার মাধবপুরে তাদের মহিলা শাখার উদ্যোগে একটি ইফতার আয়োজন করা হয়। ওই আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন। আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে কৃষকদল নেতা তরু মিয়ার অবস্থা গুরুতর হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে শুক্রবার রাত প্রায় ৮টার দিকে তিনি মারা যান। জামায়াতের পক্ষ দাবি করছে, তার মৃত্যু সংঘর্ষজনিত নয়, বরং স্ট্রোকজনিত কারণে হয়েছে।
অন্যদিকে, শনিবার বেলা ১২টার দিকে ঝিনাইদহ মর্গ থেকে ময়নাতদন্ত শেষে তরু মিয়ার লাশ নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে হামদহ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দলটির নেতাকর্মী ও নিহতের স্বজনরা বক্তব্য রাখেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।
নিহতের ছেলে শীপন মিয়া বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় ৫১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল শেখ জানান, মামলার প্রক্রিয়া চলছে এবং আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।##

