বাগেরহাটের কচুয়ায় অন্তঃসত্ত্বা নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, প্রধান অভিযুক্ত আটক

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের কচুয়ায় বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এক বিবাহিত নারী। ভুক্তভোগী ওই নারী মানসিক প্রতিবন্ধী আনোয়ার শেখের মেয়ে এবং বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই ঘটনায় পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত ফেরদৌস হাওলাদারকে (৩০) আটক করেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই নারী গত দুই মাস ধরে কচুয়া সদর ইউনিয়নের বারুইখালী গ্রামে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তার স্বামীর বাড়ি মানিকগঞ্জ এলাকায়। গত ১০ মার্চ রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে একই এলাকার কেরামত হাওলাদারের ছেলে ফেরদৌস হাওলাদার তাকে ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত কোমল পানীয় (স্প্রিট) খাইয়ে অচেতন করে। এরপর মাদক সেবন করে ফেরদৌসসহ একাধিক ব্যক্তি তাকে সঙ্ঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: মনি শংকর পাইক জানান, “সকালে ওই নারী এমার্জেন্সি বিভাগে চিকিৎসার জন্য আসেন। তিনি শারীরিকভাবে নিগৃহীত হয়েছেন জানতে পেরে আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিই। পরে উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে পুলিশি পাহারায় বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।” কচুয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারী থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ১২ মার্চ দুপুর ১২ টায় চৌরাস্তা থেকে প্রধান অভিযুক্ত ফেরদৌসকে আটক করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অভিযুক্ত ও স্থানীয়দের বক্তব্য

আটকের আগে অভিযুক্ত ফেরদৌস হাওলাদার ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। এর আগেও তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী একটি মহল বিষয়টি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এই ঘটনার নেপথ্যে মাদক সংশ্লিষ্টতার যোগসূত্র থাকতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *