খুলনা বটিয়াঘাটা গাওঘরায় মস্তকবিহীন মহিলার হত্যার অপর আসামী সিজার মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে, পিবিআই

সেখ রাসেল, খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো চিফ।
খুলনা বটিয়াঘাটা ৪ নং সুরখালী ইউনিয়নের গাওঘরা গজালিয়া ব্রিজের নিজে মস্তক বিহীন এক মহিলার লাশ পাওয়ার ঘটনায় ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড অনুযায়ী ২০/০৮/২০২৫ ইং তারিখ বটিয়াঘাটা থানায় ০৯ নং মামলা দায়ের করা হয়। ঐ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সিজার মোল্লাকে আটক করেছে, পিবিআই।
তদন্তকালে জানা যায় মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামী লালন গাজী ও ভিকটিম সালেহা বেগমের বাড়ি একই গ্রামে। ভিকটিম ইতঃপূর্বে সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দেশে ফেরত আসার পরে আসামী লালন গাজীর সাথে ভিকটিম সালেহা বেগম পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে আসামি লালন গাজীর একটি মাটি কাটা ভেকু পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী থানা এলাকায় ভাড়ায় চলাকালীন সময়ে ভিকটিম সালেহা বেগমকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ইন্দুরকানী থানাধীন চারাখালী বালুর রাস্তা এলাকায় জনৈকা জেসমিন বেগমের বাড়ীতে মাসিক ৩,০০০/- টাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকে। আসামি লালন পূর্ব হতে বিবাহিত হওয়ায় ১০/১৫ দিন পরপর ভিকটিম সালেহা বেগমের বাসাতে আসা যাওয়া করতো। আসামি সুকৌশলে সালেহা বেগমের ব্যাংকে গচ্ছিত থাকা প্রায় ১৫/১৬ লাক্ষ টাকা নিয়ে নেয়। ভিকটিম সালেহা বেগম এবং আসামি লালন গাজী স্বামী স্ত্রী হিসেবে বসবাস করলেও ভিকটিমকে রেজিস্ট্রি বিয়ে না করায় একপর্যায়ে ভিকটিম সালেহা বেগম আসামিকে বিয়ে করতে চাপ দিতে থাকে এবং আসামির স্ত্রীর দাবী নিয়ে আসামির বাড়ীতে উঠার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। আসামি লালন তখন ভিকটিমের নিকট হতে পরিত্রান পাওয়ার জন্য তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
উক্ত পরিকল্পনা মোতাবেক আসামি লালন ১৯/০৮/২০২৫ ইং তারিখ সন্ধ্যায় ভিকটিম সালেহা বেগমকে লালনের মামাতো ভাই সিজার মোল্লার বাড়ী বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা থানাধীন গজালিয়া গ্রামে নিয়ে যায়। আসামী লালন ও তার মামতো ভাই সিজার মোল্লা ভিকটিমকে হত্যা করে মৃতদেহের পরিচয় লুকানোর জন্য মৃতহেদর পরিধেয় বস্ত্র খুলে ফেলে মাথা দ্বিখন্ডিত করে মাথা, মৃতদেহ, পরিধেয় বস্ত্র, ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আলামত নদীতে ফেলে দেয়। উক্ত হত্যা মামলাটি তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিম সালেহা বেগমকে হত্যার ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত আসামি লালন গাজীকে ইতোঃপূর্বে গ্রেফতার পূর্বক আলামত উদ্ধার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং অপর আসামী সিজার মোল্লা পলাতক রয়েছে মর্মে জানা যায়।
অতঃপর উক্ত হত্যা মামলার ঘটনা সংক্রান্তে পিবিআই প্রধান জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল, অ্যাডিশনাল আইজিপি, বাংলাদেশ পুলিশ এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায়, পিবিআই খুলনা জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন, পিপিএম-সেবা এর নেতুত্ত্বে পিবিআই খুলনা জেলার চৌকস দল ঢাকা ও নারায়নগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু আসামি সিজার মোল্লা অত্যন্ত ধুরন্ধর এবং চালাক প্রকৃতির হওয়ায় সে কোন মোবাইল ফোন ব্যবহার করত না এবং নিজের পরিবার সহ এলাকার কারো সাথে কোন যোগাযোগ রাখত না। এমতাবস্থায় পিবিআই, খুলনার চৌকস দল সুকৈশলে আসামীকে ট্রেস করতে সক্ষমত হয় এবং সহযোগী আসামি সিজার মোল্লাকে গত ০১/০৩/২০২৬ খ্রিঃ ঢাকার হাতিরঝিল থানাধীন মগবাজার হতে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে আসামি সিজার মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ পূর্বক তার দেখানো মতে ভিকটিম সালেহা বেগমের হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি হাসুয়া উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়। অতঃপর আসামী সিজার মোল্লাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে সে ভিকটিম সালেহা বেগমের হত্যাকান্ডের বিষয়ে ফৌঃকাঃবিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জাবনবন্দি প্রদান করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *