তারাকান্দায় বিভিন্ন বাজারে জাল নোটের ছড়াছড়ি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে

মোঃ হেলাল উদ্দিন সরকার। স্টাফ রিপোর্টার।

ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার জাল নোটের সরবরাহ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে চলেছে। এর মধ্যে রয়েছে ছোট বড় নোট, মুহূর্তের মধ্যে এ ধরনের ছোট বড় লোক গুলো সক্রিয়ভাবে সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হইতেছে।
ব্যবসায়ীদের নিকট হতে ​জানা যায়, ময়মনসিংহ তারাকান্দা উপজেলায় বিশেষ করে সাপ্তাহিক হাটের দিনগুলোতে এই চক্রটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। সচল নোটের মাধ্যমে জাল নোট, আসল টাকা চিনতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ ক্রেতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি পরিকল্পিত চক্র উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে জাল টাকা ছড়িয়ে দিচ্ছে। তারা সাধারণত ব্যস্ত সময়ে বা সন্ধ্যার পর ভিড়ের সুযোগ নিয়ে বড় নোট দিয়ে কম দামের পণ্য কেনে। এতে করে তারা সহজেই আসল টাকা ফেরত নিচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে তারাকান্দা বাজার, কাশিগঞ্জ বাজার, চকনাপাড়া বাজার। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ আড়ত ও গবাদিপশুর হাটে এবং হাঁস মুরগির হাটগুলোতে এই চক্র ভালো টাকার মধ্যে জাল নোট দিয়ে থাকে।

​তারাকান্দা বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান জানান, “গত সপ্তাহে এক ক্রেতা ১০০০ টাকার নোট দিয়ে শশা, কাঁচা মরিচ, লেবু ও গাজর কিনে নিয়ে যান। পরে তার বড় ভাই শাজাহান কে টাকা দিতে গিয়ে দেখি সেটি জাল টাকা। এদের মতো ছোট দোকানদারদের জন্য একদিনে ১০০০ টাকা হারানো অনেক বড় ক্ষতি।” অন্যদিকে, সিএনজি চালক ও অটো রিকশাচালকরাও এই বিপদে পড়ছেন। দ্রুত ভাড়া মিটিয়ে চলে যাওয়ার সময় নোট যাচাই করার সুযোগ পান না তারা।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, জাল নোটগুলো আসলের তুলনায় কিছুটা বেশি পিচ্ছিল এবং খসখসে ভাব কম থাকে। এছাড়া জলছাপ ও নিরাপত্তার সুতা আসল নোটের মতো নিখুঁত নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাল নোট চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হউক। সাধারণ মানুষকে বড় অঙ্কের লেনদেনের সময় সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হউক। সেই সঙ্গে সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য বলা হইলো। টাকা নেওয়ার সময় অবশ্যই জলছাপ ও খসখসে ভাব পরীক্ষা করে নিন, বড় বাজারে সম্ভব হলে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন ব্যবহার করুন, সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা চক্রের হদিস পাওয়া গেলে নিকটস্থ থানায় খবর দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হইলো।

​বর্তমান রমজান মাসের ২০ থেকে শুরু করে জাল নোটের কারবারি বাড়বে ব্যাপক হারে। ঈদের ব্যস্ত সময়ে শপিং মহল গুলো সক্রিয়ভাবে জাল টাকা চেনার উপায় থাকে না বিধায়, জাল নোটের সরবরাহ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে এতে করে আতঙ্কে জনসাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *