বাগেরহাটের কচুয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮ দোকান পুড়ে ছাই, ক্ষতি প্রায় ২০ লাখ টাকা
এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার ছোট আন্ধারমানিক বটতলা এলাকায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা আন্ধারমানিক, চরসোনাকুর ও সোনাকুড় এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রাত আনুমানিক ২টার দিকে একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পার্শ্ববর্তী দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। সরেজমিনে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন—মিজান শেখ (৫০), যার সাইকেল, মোটরসাইকেল গ্যারেজ ও মুদি দোকান ছিল; প্রশান্ত মৃধা (৪৫), ছিট কাপড় ও টেইলার্স; বাদশা শেখ (৪০), মুদি দোকান; সিরাজুল শেখ (২৬), ফিডের দোকান; কাইয়ুম ব্যাপারী (৫০), মুদি দোকান; আলামিন ব্যাপারী (৪৫), মুদি দোকান; আলামিন শেখ (৩৫), ইলেকট্রনিক্স দোকান; এবং আশিস মৃধা (৪৫), চা-পান ও মুদি দোকান।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, আগুন লাগার পরপরই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেওয়া হলেও তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় নেয়। তাদের দাবি, এই বিলম্বের কারণেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে গেছে। রাতেই এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয়দের রোষানলে পড়েন এবং একপর্যায়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার জাহিদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এছাড়া কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা। ইউএনও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে জরুরি খাদ্য সহায়তা ও শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করেন এবং সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা—তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

