বটিয়াঘাটা হাটবাড়ি গ্রামের ২.৫ কিলোমিটার চলাচলের রাস্তা চরম ঝূকিপূর্ণ, সম্পূর্ণ রাস্তাটি কার্পেটিং এর দাবি

সেখ রাসেল, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, খুলনা:
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার একেবারই সন্নিকটে ৯ নং ওয়ার্ড হাটবাড়ি গ্রামের ২.৫ কিলোমিটার ইটসোলিং রাস্তা চরম ঝূকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

হাটবাড়ী গ্রামের দক্ষিণপাড়া থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমপাড়া সংলগ্ন প্রায় ২.৫ কিলোমিটার ইট সোলিং ও কাঁচা রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ রাস্তা দিয়ে কমলমতি শিশুরাসহ অনেক বয়জৈষ্ঠ্য লোকেরা চলা ফেরা করে। রাস্তাটি উপজেলার সদর ইউনয়নের একেবারেই কাছে হওয়া স্বত্বেও হচ্ছে না সংস্কার। ঢালাই রাস্তা বা কার্পেটিং রাস্তা করলে জনগণের চলাচলের সুবিধা হতো।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা উপজেলার পাশে হয়েও যোগাযোগ ব্যবস্থার কোনো উন্নতি হয় না। দক্ষিণপাড়া থেকে পশ্চিমপাড়া পর্যন্ত প্রায় রাস্তার অধিকাংশ অংশ এখনো কাঁচা রয়ে গেছে। যেখানে ইট সোলিং রাস্তা আছে, সেখানেও ইট উঠে গিয়ে রাস্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় কাদা জমে কর্দমাক্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়।

দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা দীপায়ন মন্ডল বলেন, প্রতিদিন স্কুল-কলেজ, বাজার ও অফিসে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষাকালে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।” এ অবস্থা বছরের পর বছর ভোগ করে আসছি। অনেকেই ভোগ করতে করতে পরপারে চলে গেছে।

পশ্চিমপাড়ার প্রদীপ জোদ্দার বলেন, “রাতে কোনো রোগী অসুস্থ হলে এই রাস্তা দিয়ে হাসপাতালে নেওয়া খুবই কষ্টকর। অনেক সময় ঝাঁকুনিতে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে আমরা সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।” এলাকায় প্রায় আট হাজার পরিবারের বসবাস। তাদের দৈনন্দিন কাজের জন্য যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই সড়কটি। বর্ষাকাল থেকে শুরু করে নভেম্বর মাস পর্যন্ত অধিকাংশ অংশ কর্দমাক্ত থাকে। ফলে ভ্যান, মোটরসাইকেল, অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও বাধাগ্রস্ত হয়।
ঐ এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য ওবায়দুল হক বলেন, “রাস্তার সমস্যার বিষয়টি আমরা অবগত আছি। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।” এলাকাবাসী ও স্থানীয় সুশীল সমাজ দ্রুত রাস্তা সংস্কার ও স্থায়ীভাবে পাকা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি নিরসনে এখন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই সময়ের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *