আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে পরিবর্তে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ প্রক্রিয়া
সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক:
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-এর চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের পরিবর্তে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রোববার রাতে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ করার পর থেকে আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অনেকের ধারণা আই হ্যাভ দ্যা প্লান এর অংশ হিসেবেই হতে পারে। জনমনে এমন প্রশ্নের দানা বেধেছে তাহলে কি অতি গুঞ্জনকৃত ইন্ডিয়ার সাথে তারেক রহমানের চুক্তি শর্ত রক্ষার্থে এমন সিন্ধান্ত।
আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে এসে বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটরের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন আমিনুল।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনাল) অ্যাক্ট, ১৯৭৩ এর সেকশন ৭ অনুসারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলা পরিচালনার জন্য মো. আমিনুল ইসলামকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদে নিয়োগ দেওয়া হলো। একইসঙ্গে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর স্মরকে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা হলো।
এ সময় উপস্থিত অন্যান্য প্রসিকিউটররা নতুন চিফ প্রসিকিউটরকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। পরে তিনি চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গিয়ে প্রসিকিউশন টিমের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এর আগে, আজ সকালে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামের নিয়োগ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর মো. মঞ্জুরুল হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালের মামলা পরিচালনার জন্য আমিনুল ইসলামকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত চিফ প্রসিকিউটর পদে নিয়োগ দেওয়া হলো। একইসঙ্গে তাজুল ইসলামের নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা হলো। অ্যাটর্নি জেনারেলের সমান পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন আমিনুল ইসলাম। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
চিফ প্রসিকিউটর বদলানোর পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের আরও চারজন আইনজীবীকে আইসিটির প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন: মো. মিজানুল ইসলাম, গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম, বি এম সুলতান মাহমুদ ও আবদুল্লাহ আল নোমান। জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আমলে গুম-খুনের বিচারের জন্য ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তাজুল ইসলামকে প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
তাজুল ইসলামের প্রতিক্রিয়া : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমার দায়িত্ব পালনের সময় যেসব মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেসবের অনেকগুলো এখনও চলমান। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। আশা করি নতুন চিফ প্রসিকিউটর সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করবেন।’ আজ দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটরের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা পরিচালনার এই দায়িত্ব অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবে নতুন নেতৃত্বের অধীনে প্রসিকিউশন আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘বিচারপ্রক্রিয়া একটি ধারাবাহিক বিষয়। এখানে কোনো ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানই একমাত্র মুখ্য।’ প্রসিকিউশন টিমের সদস্যরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার প্রেক্ষাপট স্মরণ করে সদ্য সাবেক প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম বলেছেন, তাঁর অনুভূতি ‘অম্লমধুর’। আজ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আজকে আমার অনুভূতিটা অম্লমধুর। বাংলাদেশের একটা কঠিন সময়ে আমি এখানে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলাম।’

