ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে
সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। কিন্তু জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না। এ ক্ষেত্রে স্বাধীনতার পর প্রথম সংসদ অধিবেশনের সভাপতি যেভাবে ঠিক করা হয়েছিল, সেই পথে হাঁটতে পারে নতুন সরকার।
প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন কে- এই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। স্পিকার পদত্যাগ করে আত্মগোপনে রয়েছেন, আর ডেপুটি স্পিকার কারান্তরীণ। ফলে সভাপতিত্বের প্রশ্নে তৈরি হয়েছে কার্যত এক সাংবিধানিক শূন্যতা। এমন পরিস্থিতিতে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ চাইতে পারেন কি না, তা নিয়েও চলছে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। একই সাথে উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে রাজনৈতিক টানাপড়েন থাকলেও একটি বিষয়ে স্পষ্ট- যে পদ্ধতিতেই গঠন হোক, দ্বিকক্ষের উভয় কক্ষেই বিরোধী দলের জন্য ডেপুটি স্পিকারের পদ সংরক্ষিত থাকবে।
গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন। তার আগে আগস্ট মাসে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেপ্তার হন। ফলে আগের সংসদের স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের শপথ পড়ানোর সুযোগ নেই। এবার সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর জন্য রাষ্ট্রপতিও প্রতিনিধি মনোনয়ন করে দেননি। ফলে সব শেষ ধাপে গিয়ে সরকার সিইসিকে দিয়ে সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর পথে রয়েছে।
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৫ অনুচ্ছেদে বলা আছে, নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশনের আগে সংসদে নির্বাচিত প্রত্যেক ব্যক্তি স্পিকার এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার এবং উভয়ের অনুপস্থিতিতে বিদায়ী স্পিকার কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তির সামনে এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয় পদ শূন্য থাকলে স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের শপথ পরিচালনা ও সংসদে সভাপতিত্ব করার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তির সামনে শপথ গ্রহণ করবেন।
এবার যেহেতু নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর জন্য রাষ্ট্রপতি কাউকে মনোনয়ন করে দেননি, সে জন্য সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করারও কেউ নেই। শুধু সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য রাষ্ট্রপতি আলাদা করে প্রতিনিধি মনোনয়ন করে দিতে পারবেন কি না, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে সে বিষয়ে কিছু বলা নেই।
এমন পরিস্থিতিতে সংসদের প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারাও সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির বিষয়ে একজন কর্মকর্তা বলেন, ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচন হওয়ার পর সরকারি ও বিরোধী দলের আলোচনার মাধ্যমে জ্যেষ্ঠ কোনো সদস্যকে সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার দায়িত্ব দিয়ে স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন করার নজির রয়েছে।
নতুন স্পিকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমে সংসদীয় নেতা, চিফ হুইপ নির্ধারণ, চিফ হুইপ মনোনয়ন, সংসদ সদস্যদের বসার ব্যবস্থাসহ সংসদীয় দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়।
সংসদবিষয়ক গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার না থাকায় রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তিও এবার শপথ পড়াচ্ছেন না বলে সংসদের প্রথম অধিবেশন পরিচালনার জন্য যেভাবেই হোক কাউকে না কাউকে মনোনীত করতেই হবে।
সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘সরকারী বিজ্ঞপ্তি-দ্বারা রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করিবেন এবং সংসদ আহ্বানকালে রাষ্ট্রপতি প্রথম বৈঠকের সময় ও স্থান নির্ধারণ করিবেন।’
নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের আগে সংসদ অধিবেশন আহ্বান না করলে কী হবে—এ প্রশ্নে অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ বলেন, এমন হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ রাষ্ট্রপতি এবং যাঁরা সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন তাঁদের মাথায়ও নিশ্চয় বিষয়টি রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করেই তাঁরা বিষয়টির সমাধান করবেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপ্রক্রিয়া নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রপতি নিজ থেকে সরে যেতে চাইলে স্পিকারের কাছে

