মহিলা ও শিশু বিষয়ক ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পুতুল লালপুর–বাগাতিপাড়ায় আনন্দের জোয়ার, মিষ্টি বিতরণ
আব্দুল মজিদ, স্টাফ রিপোর্টার নাটোর:
নাটোরের রাজনীতিতে এ যেন গর্বের আরেকটি অধ্যায়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এর প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই নাটোর-১ (লালপুর–বাগাতিপাড়া) এলাকায় আনন্দের ঢেউ বয়ে যায়। দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবার মধ্যেই ছিল উচ্ছ্বাস। বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ, শুভেচ্ছা বিনিময় ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
জনপদজুড়ে উৎসবের আমেজ
লালপুর বাজার, বাগাতিপাড়া উপজেলা সদর ও আশপাশের গ্রামগুলোতে ছিল উৎসবের আবহ। তরুণদের হাতে ফুল, প্রবীণদের মুখে গর্বের হাসি।
বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন,
“আমাদের মেয়ে আজ দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এর দায়িত্ব পেয়েছেন। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক পদপ্রাপ্তি নয়, পুরো লালপুর–বাগাতিপাড়া তথা নাটোর জেলার মানুষের জন্য গর্ব ও সম্মানের বিষয়।
তিনি বলেন, ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল একজন শিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক নেতৃত্বের অধিকারী। তাঁর মাধ্যমে নারী ও শিশু অধিকার রক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা কার্যক্রমের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়নে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
মোশাররফ হোসেন আশা প্রকাশ করে বলেন, পুতুলের নেতৃত্বে আমাদের এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবেন।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অভিনন্দনের জোয়ার দেখা যায়। অনেকেই মন্তব্য করেছেন নারীর নেতৃত্বে সামাজিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা
ব্যারিস্টার পুতুলের রাজনৈতিক পথচলায় রয়েছে পারিবারিক ঐতিহ্যের ছাপ। তাঁর পিতা ফজলুর রহমান পটল যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছিলেন এমন স্মৃতি এখনও স্থানীয়দের মুখে মুখে। সেই ধারাবাহিকতায় পুতুলের মন্ত্রিত্বকে অনেকে উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয় শিক্ষক নেতা সাজেদুর সাজ্জাদ বলেন, “আমরা চাই নারী ও শিশুকল্যাণে বাস্তবভিত্তিক কাজ হোক। আমাদের এলাকায় নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ুক এটাই প্রত্যাশা।”
নারীর ক্ষমতায়নে নতুন প্রত্যাশা
মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, শিশু সুরক্ষা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী সহায়তা এসব ক্ষেত্র সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত। ফলে পুতুলের দায়িত্বকে ঘিরে প্রত্যাশাও বেশি।
তরুণ সমাজকর্মী রাবেয়া খাতুন সুরভী বলেন, “একজন শিক্ষিত ও পেশাদার নারী নেতৃত্ব পেলে তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের জন্য আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।”
নাটোর-১ আসনে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই স্থানীয়রা তাঁকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চেয়েছিলেন। অবশেষে সেই প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় এলাকাবাসীর বিশ্বাস এবার অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে নতুন গতি আসবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরাঞ্চলের একটি জেলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ে প্রতিনিধিত্ব পাওয়া আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ।
সামনে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
অবশ্য দায়িত্ব যেমন গৌরবের, তেমনি চ্যালেঞ্জেরও। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, সমাজকল্যাণ ভাতার স্বচ্ছ বণ্টন এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এসব ক্ষেত্রেই কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন নাগরিকরা।
তবে আপাতত লালপুর–বাগাতিপাড়ায় উৎসবের রেশ কাটেনি। মিষ্টি বিতরণ আর শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে মানুষ যেন এক নতুন আশার গল্প লিখতে শুরু করেছে।
নাটোরবাসীর চোখ এখন ভবিষ্যতের দিকে প্রতিমন্ত্রী পুতুলের হাত ধরে নারী, শিশু ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, সেটাই দেখার অপেক্ষা।

