সোম ও বৃহস্পতিবার বসে হাজিগঞ্জের বাকিলা বাজারের হাট, জমে ওঠে গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র
মোঃ জাবেদ হোসেনঃ চাঁদপুরের হাজিগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাকিলা বাজারে সপ্তাহে দুই দিন—সোমবার ও বৃহস্পতিবার—নিয়মিত সাপ্তাহিক হাট বসে। গতকাল দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাটকে কেন্দ্র করে বাজারজুড়ে ছিল ক্রেতা-বিক্রেতার উপচে পড়া ভিড়, প্রাণচাঞ্চল্য ও ব্যস্ততা। আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ হাটে এসে অংশ নেন, ফলে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক জমজমাট বাণিজ্যকেন্দ্রে।
হাটে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত তাজা শাকসবজি, মরিচ, বেগুন, শসা, কাঁচা সবজি, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, ডালসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ওঠে। পাশাপাশি দেশি মাছ, শুকনা মাছ, ফলমূল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা সামগ্রীরও ব্যাপক কেনাবেচা চলে। সকাল থেকে দোকান বসতে শুরু করলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে এবং দুপুরের দিকে হাটের মূল বেচাকেনা জমে ওঠে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের খোলা জায়গা ও সড়কের দুই পাশে সারি সারি করে বসেছে সবজি ও অন্যান্য পণ্যের দোকান। বিক্রেতারা কেউ মাটিতে চট বিছিয়ে, কেউ অস্থায়ী টেবিল বা বাঁশের মাচা তৈরি করে পণ্য সাজিয়ে বসেছেন। ক্রেতারা দরদাম করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনছেন, আবার কেউ কেউ পাইকারি দামে পণ্য সংগ্রহ করছেন।
স্থানীয় ক্রেতারা জানান, সাপ্তাহিক এই হাটে তাজা পণ্য সহজে পাওয়া যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে দামও তুলনামূলক কম থাকে। এতে করে সাধারণ মানুষ কম খরচে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে পারেন। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলেন, সপ্তাহে নির্ধারিত এই দুই দিনের হাটকে ঘিরেই তাদের আয়ের বড় একটি অংশ নির্ভর করে। দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতা আসায় বিক্রিও ভালো হয়।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, বহু বছর ধরে বাকিলা বাজারের এই হাট এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা ও গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বিক্রি করতে পারেন, ফলে মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমে এবং ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ বাড়ে।
তবে বাজারে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা, সড়ক সম্প্রসারণ, ড্রেনেজ ও স্থায়ী শেড নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলে বাকিলা বাজারের এই সাপ্তাহিক হাট আরও বড় পরিসরে গড়ে উঠতে পারে এবং অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হবে।

