খুলনা-১ আসনে বিএনপির জোট থেকে মনোনীত প্রার্থী আমির এজাজ খান বিপুল জয়, এ জয় দাকোপ বটিয়াঘাটা বাসীর
মো: নজরুল ইসলাম, জেলা ব্যুরো চিফ, খুলনা:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-১ আসনে বিএনপি জোট মনোনীত প্রাার্থী আলহাজ্ব আমির এজাজ খানের বিশাল বিজয় অর্জন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন জামায়াতে জোটের কৃষ্ণ নন্দী।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচনের ব্যতিক্রম ছাড়া স্বাধীনতার পর কখনো খুলনা-১ ও খুলনা-৫ আসনে জয় পায়নি বিএনপি। হিন্দু ভোটার অধ্যুষিত আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই দুই আসন এবার প্রথমবারের মতো বিএনপির দখলে গেল।
নির্বাচনে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আমির এজাজ খান। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী পেয়েছেন ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট।যা প্রায় ৫১ হাজার ভোটের ব্যবধান সৃষ্টি করে এ বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
খুলনা-১ আসনের নির্বাচনী ইতিহাসে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমীর এজাজ খান। সনাতন ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত এই আসনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। ধানের শীষ প্রতীকের এই প্রার্থীর ঐতিহাসিক বিজয়কে স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনে ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৮ সালে পরাজিত হয়ে এবার চতুর্থবার বিএনপির প্রার্থী হয়ে জয়ী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমীর এজাজ খান। অন্যদিকে ১৯৯৬ সালের পর খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে আর কখনো বিএনপি প্রার্থী দেয়নি। দীর্ঘ ২৯ বছর পর এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে বিসিবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগার (লবি) জয়ী হয়েছেন।
খুলনা-১ আসন : এবারের নির্বাচনে খুলনা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী শুরু থেকেই হিন্দু সম্প্রদায় ও আওয়ামী লীগের ভোটারদের লক্ষ্য করে প্রচার চালান। স্থানীয় সন্তান হিসেবে আগের তিনবারের পরাজয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায় তাঁর পক্ষেই যায়। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭ হাজার। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, দাকোপ উপজেলায় ৫৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ মানুষ হিন্দু এবং বটিয়াঘাটায় এই হার ২৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
এই আসনে জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থান বরাবরই দুর্বল। ১৯৯৬ সালের পর এখানে তারা প্রার্থী দেয়নি। হিন্দু ভোটারদের লক্ষ্য করে এবার জামায়াতে ইসলামী প্রথমবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী করে আলোচনার জন্ম দেয়। কৃষ্ণ নন্দী এই এলাকার ভোটার ছিলেন না। তিনি প্রচারে হিন্দুদের নিরাপত্তা ও চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং হিন্দুদের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেননি।
জয়ের পর আমীর এজাজ খান বলেন, ‘তিন দশকের বেশি সময় ধরে এই এলাকার মানুষের পাশে আছি। এবার হিন্দু-মুসলমান সব সম্প্রদায়ের মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’
প্রথম দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান খুলনা-১ আসন ছিল খুলনা-৫ আসন নামে। প্রথম সংসদে আওয়ামী লীগের কুবের চন্দ্র বিশ্বাস এবং দ্বিতীয় সংসদে প্রফুল্ল কুমার শীল নির্বাচিত হন। এরশাদ শাসনামলে ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের শেখ হারুনুর রশিদ এবং ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির শেখ আবুল হোসেন নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে আবারও শেখ হারুনুর রশিদ জয়ী হন।
১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা জয়ী হয়ে আসনটি ছেড়ে দিলে স্বতন্ত্র প্রার্থী পঞ্চানন বিশ্বাস নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ২০০১ সালে পঞ্চানন বিশ্বাস, ২০০৮ সালে ননী গোপাল মণ্ডল এই আসন থেকে জয়ী হন।

