আর কাউকে লুটপাট করতে দেবো না,ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে জামায়াত’কে ভোট দিতে হবে — পিরোজপুরের নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান
মোঃ মনিরুল ইসলাম চৌধুরী,স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের প্রতিটি শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে। মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ সরকারি খরচে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারী) বিকাল সাড়ে ৩টায় পিরোজপুর শহরের জেলা স্কুল মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। জনসভাটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা জনগণের সরকার চায় না এবং দেশকে গোলাম বানিয়ে রাখতে চায়, তারা এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনার পর মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “অতীতে অনেক মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। স্বৈরাচার সরকার আমার দেশের প্রায় ২৮ লক্ষ কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। এই টাকার মালিক জনগণ। আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে আর কাউকে লুটপাট করতে দেবো না। যারা লুটপাট করেছে, তাদের মুখে হাত ভরে দিয়ে সব বের করে জনগণের কাছে ফিরিয়ে আনা হবে।এ সময় তিনি বলেন, জনগণের টাকা চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন, “জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা বেকার ভাতা চায়নি, তারা কাজের অধিকার চেয়েছিল।” যুবসমাজকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “আমরা যুবসমাজকে কথা দিচ্ছি— ইনশাআল্লাহ তাদের সঠিক শিক্ষা ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পেশাগতভাবে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। এরপর তাদের হাতে যোগ্য ও সম্মানজনক কর্মসংস্থান তুলে দেওয়া হবে।”
নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ডা.শফিকুর রহমান বলেন, “মায়েদের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। মায়ের অপমান এ জাতি সহ্য করবে না। ঘর থেকে শুরু করে কর্মস্থল— সব জায়গায় নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী— কারও মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না; নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আপনাদের প্রিয় নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীসহ জুলাই আন্দোলনের শহীদদের বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিতে হবে। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন হবে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের নির্বাচন।”তিনি বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ মানে আজাদি’ আর ‘না মানে গোলামী’— এই কথা মাথায় রেখে দুর্নীতিমুক্ত, শোষণহীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে ‘হ্যাঁ’কে জয়যুক্ত করতে হবে।”
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসেন ফরিদের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী, পিরোজপুর-২ আসনের প্রার্থী শামীম সাঈদী এবং পিরোজপুর-৩ আসনের এনসিপি প্রার্থী ড. শামীম হামিদীর হাতে নিজ নিজ দলীয় প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

