তারেক রহমানকে আলোচনার আমন্ত্রণ জামায়াত আমিরের পক্ষান্তরে বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যে সরকার গঠন করবে না

সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইস্যুতে পাবলিক প্ল্যাটফর্মে সরাসরি আলোচনায় বসতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি এই আমন্ত্রণ জানান।

ওই পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, ‘প্রিয় মাননীয় তারেক রহমান, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই বৈধতা আসে। ন্যায্যতা ও জনসাধারণের আস্থা ছাড়া কোনো ফলাফলই জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে না। জুলাই বিপ্লবের পর তরুণদের প্রতি আমাদের কর্তব্য হলো—রাজনীতি যে সুশীল এবং অ-সংঘাতমূলক হতে পারে, তা দেখানো। আসুন আমরা গণমাধ্যম ও জনসাধারণের সামনে দাঁড়াই এবং ভবিষ্যতের শাসনব্যবস্থার মান নির্ধারণ করি—যা সমালোচনার জন্য উন্মুক্ত, জবাবদিহিমূলক এবং স্বচ্ছ।’ জামায়াত আমির লিখেছেন, যেহেতু আপনি আপনার পরিকল্পনার কথা সবাইকে জানিয়েছেন, তাই একটি পাবলিক প্ল্যাটফর্মে আমার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি—যেখানে আমরা জাতির সামনে আমাদের নিজ নিজ ইশতেহার উপস্থাপন করতে পারব এবং জনগণকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে পারব। তিনি লিখেছেন, আসুন, আমরা বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায় শুরু করি, যেখানে আমরা সবাই জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকব।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, বিএনপির এককভাবেই সরকার গঠনের সক্ষমতা রয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নিজের দলীয় কার্যালয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপির এ অবস্থানের কথা জানান তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি কথা বলেন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো, জেনজিদের ভোট ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে। রয়টার্সকে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেছেন তারেক রহমান, ‘আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধীদলই বা কে হবে?’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি জানি না তারা কতটি আসন পাবে। তবে যদি তারা বিরোধীদলে থাকে, আমি আশা করি তারা একটি ভালো বিরোধীদল হবে।’ বিএনপি সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়লাভে আত্মবিশ্বাসী। দলটি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, আর বাকি আসনগুলোতে তাদের মিত্ররা প্রার্থী দিয়েছে।

নির্বাচিত হলে বাংলাদেশ ভারতের দিক থেকে সরে চীনের দিকে ঝুঁকবে কি না—এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সক্ষম এমন অংশীদার প্রয়োজন বাংলাদেশের। তিনি বলেন, আমরা যদি সরকারে আসি, আমাদের তরুণদের জন্য চাকরি দিতে হবে। দেশে ব্যবসা আনতে হবে, যাতে কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন পায়। সুতরাং বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে দেশ বা পক্ষ আমাদের জনগণ ও দেশের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে। তাদের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব হবে—কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে নয়। শেখ হাসিনার সন্তানরা বিদেশ থেকে ফিরে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, যদি কেউ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হন, যদি মানুষ তাকে স্বাগত জানায়, তাহলে রাজনীতি করার অধিকার সবারই আছে।

বাস্তবতা ভিন্নমত পোষণ করছেন সাধারণ মানুষ, তাদের ভাষ্য জামায়াত একটি জনমত জোয়ার তৈরি করেছে। এবার সরকার গঠন করবে ১১ দলীয় জোট সরকার। ৫ আগষ্ট/২৪ এর পর থেকে বিএনপির এলাকা ভিত্তিক বিভিন্ন নেতা কর্মীরা লুটপাট, দখল বাজির সাথে জড়িত থাকায় জনগণ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তারেক রহমান দেশে আসার পরও নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। এমনটি বলছিলেন, শরিফুল ইসলাম বাবুল নামের এক বিএনপি প্রেমী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *