মোরেলগঞ্জে জনসমুদ্রে রূপ নিল জামায়াতের ঐতিহাসিক জনসভা“লুটপাটের রাজনীতি নয়, প্রতিষ্ঠা হবে ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ”—অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম
এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি :
ন্যায়, ইনসাফ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করার জন্য বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা) আসনের ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও জেলা শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীম। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মোরেলগঞ্জ উপজেলার বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ফুলহাতা বাজারে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিকেল গড়াতেই জনসভাটি জনসমুদ্রে রূপ নেয়। আশপাশের ইউনিয়ন ও গ্রাম থেকে দলে দলে মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্ল্যাকার্ড হাতে জনসভায় যোগ দেন। পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবমুখর রাজনৈতিক সমাবেশে।
নেতৃত্বে আস্থা, জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণবহরবুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামীর আমির মাওলানা এইচ এম গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াত ইসলামের মোরেলগঞ্জ উপজেলা আমির মাওলানা শাহাদাৎ হোসাইন, উপজেলা নায়েবে আমির মাস্টার মনিরুজ্জামান মনির, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা মাকসুদ আলী খান, পেশাজীবী সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান খান, কাজী খিলাফতে ইসলামী মজলিসের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাসুম বিল্লাহ তালুকদার, বহরবুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াত নেতা মাওলানা নাজমুল ইসলাম, যুব জামায়াতের উপজেলা সভাপতি শফিউল আযম, নেতা নাইম শিকদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।জনসভা সঞ্চালনা করেন বহরবুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ইমামুল হোসেন।“উপকূলের মানুষ আর অবহেলার শিকার হবে না”প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীম বলেন,“দীর্ঘদিন ধরে মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলার মানুষ অবহেলা, বৈষম্য ও অনিয়মের শিকার। ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। জামায়াত ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করলে এই জনপদের মানুষ প্রথমবারের মতো ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সেবা পাবে।”তিনি বলেন, “আমরা কথা দিয়ে কথা রাখার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। সুপেয় পানির স্থায়ী সংকট সমাধান, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা নিরসন এবং দুর্যোগপ্রবণ উপকূলবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে আমাদের প্রথম কাজ।”
দুর্নীতি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানঅধ্যক্ষ আব্দুল আলীম বলেন,“লুটপাট, ঘের দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দলীয় দখলবাজির রাজনীতি থেকে মানুষ মুক্তি চায়। আমরা সেই মুক্তির রাজনীতিই করতে চাই। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকার রক্ষাই জামায়াত ইসলামীর রাজনীতির মূল লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন,“বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আপনাদের সমর্থন চাই। ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।”নির্বাচনী অঙ্গীকার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিজের নির্বাচনী ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরে অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম বলেন, নির্বাচিত হলে—
শরণখোলা থেকে ঘষিয়াখালী পর্যন্ত স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণসুন্দরবনকেন্দ্রিক পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্প গড়ে তোলাপানগুছি নদীতে সেতু নির্মাণের উদ্যোগবেকার যুবকদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিশিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা
ব্যতিক্রমী ঘোষণাজনসভায় তিনি আরও ঘোষণা দেন, নির্বাচিত হলে তিনি সরকারি গাড়ি শুল্কমূল্যে গ্রহণ করবেন না। সাধারণ মানুষের করের টাকায় বিলাসী জীবন নয়—এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেই এ সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি। পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় আপসহীন থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার করেন।জনসভা শেষে উৎসাহ-উদ্দীপনাজনসভা শেষে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। ‘দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিন’, ‘ন্যায়ের পক্ষে ভোট দিন’—এমন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

