চাঁদপুর-৩ আসনে জামায়াতের বিশাল জনসমাবেশ জনগণ পরিবর্তন চায়: মিয়া গোলাম পরওয়ার
মোঃ জাবেদ হোসেনঃবাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে একটি পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজধানী থেকে গ্রাম-গঞ্জ, শহর-বন্দর—সবখানেই মানুষ বলছে, স্বাধীনতার পর বহু দল ও প্রতীক দেখেছে, এবার তারা সত্যিকারের পরিবর্তন চায়।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে চাঁদপুর-৩ আসনের পৌর শহরের হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর বিশাল নির্বাচনী জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “রিকশাওয়ালা, চা-ওয়ালা, ফেরিওয়ালা, গাড়িচালক, নৌকার মাঝি—সবার মাঝেই এক ধরনের জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। গত ৫৪ বছরে যে তিনটি দল ক্ষমতায় ছিল, তারা নৈতিকতা, সুশাসন, দেশপ্রেম ও আদর্শের ক্ষেত্রে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।”
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অতীতের কোনো শাসকদলই বুক ফুলিয়ে বলতে পারবে না যে, তাদের শাসনামলে দুর্নীতি হয়নি, দলীয়করণ হয়নি কিংবা বিরোধীদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীনরা বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে এবং স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা পরিচালিত হতে দেয়নি।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, “ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা খুন, ধর্ষণসহ নানা অপরাধ করেও পার পেয়ে যায়। অথচ নিরপরাধ মানুষকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে বছরের পর বছর কারাগারে রাখা হয়েছে।”
দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “বারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে। ঘুষ ও সুদের মাধ্যমে জনগণের সর্বনাশ করেছে।” তিনি প্রশ্ন করেন, “শেখ হাসিনার পিয়নের যদি ৪০০ কোটি টাকা থাকে, তাহলে তার নিজের কত টাকা থাকতে পারে?”
জনসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজীসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, বিগত ৫৪ বছর যারা রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে, জনগণ এবার তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তারা দাবি করেন, ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চায়, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
জনসমাবেশে ঘোষণা দেওয়া হয়, প্রশাসনের কোনো স্তরে দলীয়করণের স্থান থাকবে না। তরুণদের জন্য কারিগরি ও উৎপাদনমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং সুদমুক্ত, জাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে।
চাঁদপুরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, ১১ দলীয় জোটের যে প্রতীক থাকবে, তাকেই বিজয়ী করতে হবে। বিশেষভাবে চাঁদপুর-৩ আসনে অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়ার দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে বিজয়ী করার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর শহর জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট শাহজাহান খান এবং সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আফসার উদ্দিন মিয়াজী। এতে জামায়াত, খেলাফত মজলিস, এনসিপি, এলডিপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা ভোটকেন্দ্র দখল, কালো টাকায় ভোট কেনা ও সহিংসতার অভিযোগ তুলে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। তারা বলেন, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র নিরাপদ থাকবে, আর জনগণ সচেতন থাকলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে চাঁদপুর-৩ আসনের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহজাহানের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে চাঁদপুরবাসীকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়ার আহ্বান জানা

